শুনানিতে গিয়ে মৃত্যু সত্তরোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের
বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল প্রাক্তন স্কুল শিক্ষকের। মৃতের নাম কাঞ্চনকুমার মণ্ডল (৭৬)। বাড়ি রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সারদাপল্লিতে। এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
আত্মীয়ের সম্পর্কে কোনও বিবরণ প্রদান না করায় কাঞ্চনবাবু ও তাঁর স্ত্রী নিয়তিরানি মণ্ডলকে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়। সেই মতো এদিন দুপুরে কাঞ্চনবাবু সাইকেল চালিয়ে ব্লক অফিসে যান। আর নিয়তিরানিকে টোটোয় চাপিয়ে নিয়ে আসেন মেয়ে কাকলি রুজ। তিনি রামপুরহাট মহকুমা শাসকের অফিসের অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক পদে চাকরি করেন। জানা যায়, ব্লক অফিস চত্বরে সাইকেলটি স্ট্যান্ড করার পর কাঞ্চনবাবু অসুস্থ বোধ করেন। খবর পেয়ে বিডিও শুনানি ছেড়ে দৌড়ে আসেন। পরে ব্লকের গাড়িতে করে তাঁকে রামপুরহাট মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ও মেয়ে। নিয়তিদেবী বলেন, স্বামী সুস্থ ছিল। ভালো মানুষ, ভাত খেয়ে আমাকে বলল, তোমরা এসো। বলে সাইকেল নিয়ে ব্লক অফিসের দিকে বেরিয়ে যায়। পরে ব্লক অফিস চত্বরে চোখের সামনেই স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। মৃতের জামাই উত্তমকুমার রুজ বলেন, এসআইআরের শুনানিতে ডেকেছিল শ্বশুর ও শাশুড়িকে। সুস্থই ছিলেন শ্বশুরমশাই। সাইকেলে গিয়েছিলেন। এসআইরের শুনানির জন্যই হয়তো শ্বশুরমশাইয়ের মৃত্যু হল।
ঘটনাস্থলে থাকা এই ওয়ার্ডের বিএলএ ২ প্রীতম মাহান্ত বলেন, এসআইআরের শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন বৃদ্ধ। মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। উনি প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র রেডি রেখেছিলেন। এদিন সঙ্গেও নিয়ে আসেন। ব্লক অফিস চত্বরে সাইকেল থেকে নামার পর তিনি নির্দিষ্ট ঘরে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে মৃত্যু হয়। ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, উনি সুস্থ লোক। বিডিও অফিসে সাইকেল থেকে নেমে কেন লাইনে দাঁড়াতে হবে? কাগজপত্রও দেখিয়ে বলেন, হয়ে যাবে তো? আমি তাঁকে আশ্বস্ত করি। এরই মধ্যেই এই ঘটনা।
খবর পেয়ে রামপুরহাট মেডিকেলে আসেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত, তৃণমূলের শহর সভাপতি অর্ণব গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। তাঁরা শহরের প্রবীণ নাগরিকের অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দুষেছেন। সৌমেনবাবু বলেন, এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি দায়ী নির্বাচন কমিশন। শুনানির নামে বৃদ্ধদের ডেকে খুন করা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা হুংকার দিচ্ছে দু’ কোটি মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে বোঝাপড়া করে কমিশন একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছে। এদিনও নির্দেশ দিয়েছে লজিক্যাল ভুল আছে এমন ভোটারদেরও শুনানিতে ডাকতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ চাপে পড়ে যাচ্ছেন। তার জেরে মৃত্যু হচ্ছে।
অন্যদিকে আশিসবাবু বলেন, বিজেপি নেতাদের নানা ধরনের হুংকারে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের হটকারিতার জন্যও আশঙ্কায় ভুগছেন। যাদের দুর্বল হৃদয়, আশঙ্কায় ভোগেন, তাঁরা মারা যাচ্ছেন। এ ঘটনাই জ্বলজ্যান্ত উদাহারণ। বৈধ ভোটারকে অবৈধ করার একটা চক্রান্ত চলছে।
অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শারীরিক কোনও দুর্বলতার কারণে উনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। আমরা পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছি। এই মৃত্যুর সঙ্গে এসআইআরের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল বরাবর লাশ নিয়ে রাজনীতি করে। এক্ষেত্রেও তাই করছে। বিডিও অঙ্কুর মিত্র বলেন, নো ম্যাপিং থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সুস্থ মানুষ। সাইকেল চালিয়ে এসে নেমেই অসুস্থ বোধ করেন। জানতে পেরে তড়িঘড়ি গাড়িতে করে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।