• অ্যাপ-বিভ্রাটের জেরেই বাড়ছে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা, খেসারত দিচ্ছে আমজনতা
    বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কমিশনের অ্যাপ-বিভ্রাটের জেরে লাফিয়ে বাড়ছে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা। কারও নামের বানানে সামান্যতম ত্রুটি থাকলেও কমিশন তাঁকে সন্দেহজনক মনে করছে। অ্যাপে ভুল কোনও কিছু আপলোড হলে ভোটারদের তার খেসারত দিতে হচ্ছে। অথচ বিএলওরাই বাড়ি গিয়ে এই ভুল সংশোধন করতে পারতেন। কমিশন তা না করে তাঁদের শুনানি কেন্দ্রে ডাকছে। আধিকারিকদের দাবি, কোথাও কোথাও বিএলওরা ভুল টাইপিং করে থাকতে পারেন। যেমন, কোনও ভোটারের বয়স ৬৩ বছর। টাইপ করতে গিয়ে তা ৩৬ হয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রেও কমিশন শুনানির জন্য তাঁকে ডেকে পাঠাচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই দ্বিতীয় দফার শুনানি শুরু হচ্ছে। ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে, সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামের বানানের সঙ্গে অ্যাপের বানানে ন্যূনতম হেরফের হলে তাঁকে ডাকা হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গৃহবধূরা। বিয়ের পর অনেক মহিলা স্বামীর পদবি লেখেন। সেইমতো তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। অথচ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পদবি অন্য ছিল। সেই কারণে তাঁদেরও ডাকা হবে। এক আধিকারিক বলেন, প্রতিটি জেলাতেই সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। পূর্ব বর্ধমানে প্রথমে ওই ধরনের সাড়ে তিন লক্ষ ভোটার ছিল। সেই সংখ্যাটাই এখন বেড়ে সাড়ে পাঁচ লক্ষ হয়েছে। আগামী দিনে তা আরও বাড়তে পারে। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, সব জেলাতেই একই অবস্থা। এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি আদৌ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে আধিকারিকরা সংশয়ে রয়েছেন।

    আর এক আধিকারিক বলেন, বিএলওর কাজ করতে গিয়ে বহু স্কুলের পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। এবার ব্যাংকগুলিতেও ডামাডোল তৈরি হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের মাইক্রো অবজার্ভার করা হচ্ছে। বহু ব্যাংকেই প্রয়োজনীয় কর্মী বা আধিকারিক নেই। সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাজ সামাল দেওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। সন্দেহজনক ভোটার বাড়ার পিছনে মূল কারণ অ্যাপের টেকনিক্যাল সমস্যা। বিএলওদের কাছে থাকা অ্যাপের সার্ভার ঠিকমতো কাজ করছিল না। রাত জেগে অনেককে কাজ করতে হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে নাম তুলতে গিয়ে বিএলওরা ভুল করে থাকতে পারেন। কমিশন জানিয়েছে, শুধু নামের বানান ভুল নয়, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে পোর্টালে থাকা বয়স একটু এদিক সেদিক হলেই তাকে ডাকা হবে। সন্দেহজনক ভোটারদের নোটিস পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন ১০০জনকে ডাকা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে। তাতেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করা যথেষ্টই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)