• বঙ্গ বিজেপিতে অনাস্থা! ভোট সামলাতে ভিনরাজ্য থেকে ৬০০ প্রতিনিধি
    বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এসআইআরে বিশেষ সুবিধা হয়নি। বরং জনমানসে ক্ষোভ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় ভূমিপুত্রদের উপর আর বিশেষ আস্থা রাখতে পারছে না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই গত বিধানসভা-লোকসভা নির্বাচনের মতো এবারও বুথস্তরে পাঠানো হচ্ছে বহিরাগতদের। বরং আরও বেশি সংখ্যায়। ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে ভিনরাজ্যের নেতাকে নিয়ে আসা হয়েছে। সেই ভাড়াটে সৈনিকদের দিয়েই বাংলা বিজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু যারা এরাজ্যের সংস্কৃতি, ভাষা বোঝে না, তারা বাংলার মন জিতবে কীভাবে? বঙ্গ বিজেপি নেতাদের একাংশ সেই প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু তাঁদের আপত্তিকে উপেক্ষা করেই দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজস্থান, হরিয়ানা, বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্যের আরও প্রায় ৬০০ জন নেতাকে বাংলায় পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রতিটি মণ্ডলের জন্যই তাঁদের ‘হায়ার’ করা হচ্ছে। কোনও সাংগঠনিক জেলায় ৩০ জন, আবার কোথাও তারা ৩৫ জনের টিম যাবে। বিজেপি সূত্রে খবর, সবথেকে বেশি ভাড়াটে সৈনিক পাঠানো হবে পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুরে। মঙ্গলবার থেকে তাঁরা এরাজ্যে ঢুকতে শুরু করবেন। প্রত্যেককে দায়িত্ব ভাগ করেও দেওয়া হয়েছে।

    জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে বাংলায় আসা ভিনরাজ্যের নেতাদের জন্য করা হয়েছে এলাহি বন্দোবস্ত। হোটেলে থেকে দামি গাড়ি চড়ে তাঁরা বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে যাচ্ছেন। এছাড়া, বিহার থেকে প্রায় ৬০টি মোটরবাইক রাঢ়বঙ্গের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য জোনেও তা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যতই বিরক্ত বিজেপির রাজ্যস্তরের এক নেতা বলেন, ‘ভিনরাজ্যের নেতাদের জন্য এত টাকা খরচ না করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি তা বুথের কর্মীদের দিত, তাহলে দল এগিয়ে যেত। এর আগেও ভিনরাজ্যের নেতাদের আনা হয়েছিল। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। তারপরও তাঁদের পাঠানোর তো কোনও যুক্তি নেই! এবছর অনেক বেশি সংখ্যক ভিনরাজ্যের নেতাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। তাঁরা বাংলা ভাষাটাই বোঝেন না। সংগঠনের কাজ করবেন কীভাবে?’

    বিজেপির অন্দরের দাবি, ভিনরাজ্যের ওই নেতাদের নির্দেশ মেনেই স্থানীয়দের কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। তবে, ‘প্রবাসী’ বিস্তারকরা কোথাও প্রকাশ্যে সভা করবেন না। বরং মণ্ডলে গিয়ে এলাকার নেতাদের কাছে বুথস্তরের রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। বৈঠক করবেন বুথ সভাপতিদের সঙ্গেও। কোন এলাকায় কোন ইস্যু নিয়ে স্থানীয় নেতারা গ্রামে যাবেন, সেটা তাঁরাই  ঠিক করবেন সেই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে। এপ্রসঙ্গে বিজেপির এসসি মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য রাজু পাত্র বলেন, ‘বিজেপি বিশ্বের সবথেকে বড় দল। কোনও গণ্ডি মেনে আমরা কাজ করি না। অন্য রাজ্যের নেতারা এখানে এসে সংগঠনের কাজ করবেন, এতে অন্যায় কিছু নেই।’
  • Link to this news (বর্তমান)