বিস্তর ভালোবাসার অক্সিজেনই কাজে গতি আনে লিটল ম্যাগ প্রকাশকদের
বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লিটল ম্যাগাজিনের প্রতি আজও মানুষের অফুরাণ ভালোবাসা, আবেগ, আকর্ষণ। এই কারণেই প্রত্যন্ত জেলা থেকেও এসে মানুষ লিটল ম্যাগাজিন মেলায় খোঁজেন পছন্দের পত্রিকাটি। তা হাতে পেলে চোখ মুখ চিকচিক করে ওঠে আনন্দে। যাঁরা লিটল ম্যাগাজিন চালান তাঁদের পদে পদে আর্থিক প্রতিকূলতা। হাজার সমস্যা। তবুও মানুষের ভালোবাসার কারণে আর লেখার আনন্দে দিনের পর দিন কাজ করে চলেন। শোনা যায়, দেনা করেও সাহিত্য সেবায় মগ্ন অনেকে। পত্রিকা প্রকাশের মহাযজ্ঞে নিজেদের উজাড় করে দিতে আসেন বহু লেখক।
শুক্রবার রবীন্দ্রসদন চত্বরে লিটল ম্যাগাজিন মেলায় দেখা ‘সাহিত্য‑অঙ্গন’ পত্রিকার সম্পাদক সুলতা সরকারের সঙ্গে। একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন, ‘আজ সমাজমাধ্যমের প্রবল দাপট। তার মধ্যেও লিটল ম্যাগাজিনের মতো ছোট পত্র‑পত্রিকা বেঁচে থাকে। পত্রিকার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসার আগুন কোনও কিছুর মাধ্যমেই নেভানো সম্ভব নয়।’ সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রশান্তি’র সম্পাদক ডঃ দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনও কিছু চাওয়া‑পাওয়ার জন্য লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করে না কেউ। স্রেফ মনের আনন্দে এবং কিছু অক্সিজেন পাওয়ার আশায় তাঁরা ক্ষুদ্র পত্রিকা প্রকাশ করে থাকেন।’ প্রাচীন সাহিত্য পত্রিকা ‘ব্রাত্য’র প্রবীণ সম্পাদক শঙ্কর রায় জানান, মানুষের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে পত্রিকা প্রকাশ করতে হয়। সহজে বিজ্ঞাপন মেলে না। দু’একটি মিললেই বুঝতে হয় বড়ো প্রাপ্তিযোগ ঘটেছে। কালঘাম ছোটে পত্রিকা প্রকাশ করতে। ‘পূষা’ লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক গোপাল বিশ্বাসের কথায়, ‘লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের ঝোঁক আসলে নেশার মতো। একবার মাথায় ঢুকলে তা নামানো কঠিন। এই বৃদ্ধ বয়সেও এই নেশা ছাড়তে পারিনি।’ ‘সসাহিত্য রংবেরং’ পত্রিকার সম্পাদক সত্যসাধন দাস, ‘আয়াস’ পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ডঃ প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় ও দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক কষ্ট ও যন্ত্রণা আছে। তার মধ্যেও মানুষ যখন ভালোবেসে একটি পত্রিকা কেনেন তখন সমস্ত দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। তখন আবারও আশা জাগে, নতুন উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে।’ হাতে লিখে ‘ফুটকি’ নামে একটি পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরে বের করছেন গোপাল ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘দোরে দোরে পত্রিকা ফেরি করি। কোনও লজ্জা লাগে না। বরং গর্ব হয় সাহিত্যকে হাতে লিখে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।’ এতকিছু রং নিয়ে রমরমিয়ে চলছে লিটল ম্যাগ মেলা। চলবে ১৩ তারিখ পর্যন্ত। সাহিত্যের অক্সিজেন দিতে এবং নিতে মেলায় ভিড় পাঠকদের। নিজস্ব চিত্র