বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগ: অধ্যাপক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, প্রার্থীদের চিঠি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে
বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: ফের অভিযোগের কেন্দ্রে বিশ্বভারতী। এবার বাংলা বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অ্যাসোশিয়েট প্রফেসর নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া প্রার্থীতালিকা ঘিরে অভিযোগের বন্যা। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ তো বটেই এমনকী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (পদাধিকার বলে ভিজিটর) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও (পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য) চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনা নিয়ে খোলাখুলি প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে সবথেকে বেশি সরব শ্রীরামপুর কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান সুমন ঘোষ। তিনি উপাচার্যকে চিঠি লিখে বিশ্ববিদ্যালয় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সুমনবাবু জানান, তিনি আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর হয়ে রবীন্দ্রশব্দাভিধানের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এশিয়াটিক সোসাইটির হয়ে ১০ হাজার পাতার মধ্যযুগ শব্দাভিধানের কাজেও যুক্ত। সেটির শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। এ ধরনের কাজ সারা পৃথিবীতেই বিরল। এছাড়াও সাহিত্যের সঙ্গে মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বয় সাধন নিয়েও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। অ্যাকাডেমিক কাজে কখনও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, কখনও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর যাতায়াত লেগেই থাকে। তবে গতবার ডাক পেলেও এবার তিনি শর্টলিস্টেড হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় নেই। এরপরই প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির দপ্তরে চিঠি লেখেন তিনি। খোলাখুলি সমাজমাধ্যমেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পোস্ট করেন। তাঁর দাবি, এর জন্য তিনি মানহানির মামলার মুখোমুখিও হতে রাজি।
অ্যাসোশিয়েট প্রফেসর পদে আবেদনকারী, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অ্যাসোশিয়েট প্রফেসর তুষার পটুয়া আবেদন করেছিলেন। তিনি জানান, তফসিলি উপজাতি শ্রেণিভুক্ত এই অধ্যাপকের স্কুল থেকে পিএইচডি সবই বিশ্বভারতীতে। তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় বর্তমানে বিশ্বভারতীর বিভাগীয় প্রধান। পরিবেশ এবং কর্মপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিতি থাকায় বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রথা রয়েছে এ ধরনের নিয়োগে। তবে তিনি ডাক পাননি। অগত্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কর্তা এবং প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিকে তিনি চিঠি লিখেছেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক নিয়োগের জন্য ইউজিসি’র তৈরি সিইউ চয়ন পোর্টালটির সমস্যার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তাতে প্রথম পাতায় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রার্থীদের যোগ্যতা বিচার হয়েছে বলে তাঁর দাবি। অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখাও হয়নি বলে জানান।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় সরকারি কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সৌগত মুখোপাধ্যায়েরও একই অভিযোগ। তিনি জানান, পরিচিত অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং এপিআই স্কোর কম থাকা সত্ত্বেও ডাক পেয়েছেন। অথচ তিনি ডাক পাননি। এর পর তিনিও সব পক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও অজস্র প্রার্থী এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। বিভাগীয় প্রধানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন অভিযোগ উঠছে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে উপাচার্যই যা বলার বলবেন। আমরা কোনও মন্তব্য করতে পারি না।’ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়ার জন্য ফোন করা হয় উপাচার্যকে। তিনি ফোন ধরেননি। বিষয়টি জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের উত্তরও দেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ বলেন, ‘উপাচার্য বাইরে থাকায় প্রতিক্রিয়া দিতে পারেননি। তবে আমাদের এখানে আবেদনপত্র চার ধাপে স্ক্রুটিনি করা হয়। ইউজিসির নিয়মেই যোগ্যতা নির্ণয় হয়। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে, এক্ষেত্রে দুর্নীতির কোনও অবকাশই নেই।’