নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৪৮ ঘণ্টা আগেই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে হানা দিয়েছিল ইডির টিম। কিন্তু তাদের কাছে ‘সার্চ অথরাইজেশন’ বা তল্লাশির অনুমতিপত্র ছিল কি? সেই প্রশ্ন উঠল। গত বৃহস্পতিবার সকালে লাউডন স্ট্রিট এবং সেক্টর ফাইভে অভিযানের সময় ‘সার্চ অথরাইজেশন’ বা ‘অথরাইজেশন লেটার’ ছিল কি না, থাকলে তা আইপ্যাক কর্তা বা তাঁর কোনও প্রতিনিধিকে দেখানো হয়েছিল কি না ইত্যাদি জানতে ইডির কাছে নথি তলব করছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের রাজনৈতিক ও ভোট পরামর্শদাতা সংস্থার কর্ণধারের বাসস্থান ও অফিসে ইডি হানা ঘিরে আইনি লড়াই হাইকোর্টের গণ্ডি ছাড়িয়ে শনিবার পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার জরুরি শুনানি, নথি উদ্ধার এবং গ্রেপ্তারি এড়ানোর রক্ষাকবচ চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হওয়ামাত্র সর্বোচ্চ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে রাজ্য সরকারও।
আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি অভিযানে যেতে পারে ইডি। সংশ্লিষ্ট জায়গায় তছরুপের টাকা রয়েছে এমন ‘বিশ্বাস’কেই ভিত্তি করে হানা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পরিভাষায় যা ‘রিজনস টু বিলিভ’। কিন্তু এক্ষেত্রেও ‘গণ্ডি’ বাঁধা রয়েছে ইডির জন্য। এজেন্সির ডিরেক্টর বা ডেপুটি ডিরেক্টরের স্বাক্ষরিত ‘সার্চ অথরাইজেশন’ থাকতেই হবে তাদের কাছে। এমনকি অভিযান পর্বে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি বা অধুনা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) আরও কিছু বিধি কঠোরভাবে মানতে হয়। যেমন, সংশ্লিষ্ট ভবন বা এলাকার দুই বা ততোধিক বাসিন্দাকে রেখে তল্লাশি চালাতে হবে। তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত করা নথি-সামগ্রীর সিজার লিস্ট বানিয়ে সাক্ষীকে দিয়ে সই করাতে হবে। অভিযান পর্বে যাবতীয় বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে জানতে চেয়েছে শেক্সপিয়র সরণি এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ।
প্রশাসন সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের অভিযানে লাউডন স্ট্রিট এবং সেক্টর ফাইভে ইডি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারা কারা হাজির ছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের নোটিস পাঠাবে পুলিশ। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া এফআইআরের ভিত্তিতে হুমকি, চুরি এবং বেআইনি প্রবেশ সংক্রান্ত ধারায় ইডির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আইটি অ্যাক্টের সেকশন ৬৬ অনুযায়ী ‘আনঅথরাইজড অ্যাক্সেস’ এবং ডেটা চুরির অভিযোগে শুরু হয়েছে তদন্তও। এদিন লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের আবাসস্থলে গিয়ে পরিচারক-পরিচারিকা, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি এবং আইপ্যাক অফিস থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পর্বেই চর্চা চলছে ইডির বর্তমান অবস্থান নিয়ে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, কয়লা পাচারের ‘মানি ট্রেল’ নিয়ে চার বছর নীরব থাকার পর ঠিক ভোটের আগে অতিসক্রিয়তা কেন?