একদফাতেই ভোট বাংলায়? প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাহিনী, নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাব রাজ্য সিইওর
বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: লোকসভা হোক বা বিধানসভা নির্বাচন—একাধিক দফায় ভোট দেখতেই অভ্যস্ত বঙ্গবাসী। এবার কি সেই অভ্যাসে ছেদ পড়তে চলেছে? রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর সূত্রে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত! ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন একদফায় করার প্রস্তাব জমা পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। সূত্র মারফত খবর, সিইও দপ্তরের তরফে সেই প্রস্তাবে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পর্যাপ্ত বাহিনী দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একদফায় ভোটগ্রহণ সম্ভব। তবে এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এবার কেরল, তামিলনাড়ু, অসমের মতো রাজ্যে একসঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হবে। সেই ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করতে শীঘ্রই বৈঠকে বসছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তার প্রস্তুতি হিসাবে কিছুদিন আগেই সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের সিইওকে তলব করেছিল কমিশন। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ভোটের দফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। কিন্তু ঠিক কেন এবার একদফায় নির্বাচনের প্রস্তাব? খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে নো-ম্যাপ ভোটারের (২০০২ সালের তালিকায় নিজের ও আত্মীয়ের নাম না থাকা) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ লক্ষেরও বেশি। সেই সঙ্গে কমিশন চিহ্নিত সন্দেহভাজন ভোটার আরও ৯৪ লক্ষ। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের শুনানি ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় বৈঠকে। বাকি রাজ্যগুলির পরিস্থিতিও যাচাই করে কমিশন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় পিছিয়ে গেলে কীভাবে নির্বাচনের দফা ঠিক করা হবে, তা নিয়ে বিকল্প রাস্তা খোলা রাখতে রাজ্যগুলির মত জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দফা কমানোর বিষয়টি নিয়ে সিইও-র মতামত জানতে চায় কমিশন। তখনই মনোজ আগরওয়াল জানিয়ে দেন, একদফায় ভোট সারতে রাজ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট-কর্মী রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বাহিনী পেলে পশ্চিমবঙ্গে একদফায় ভোট সেরে ফেলা যেতে পারে।
২০২১ সালের বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। ২০২৪ সালে রাজ্যে সাত দফায় হয়েছিল লোকসভা ভোট। সেবারই পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড এক হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল কমিশন। এবার একদফায় ভোটগ্রহণ সেরে ফেলতে গেলে দ্বিগুণ সংখ্যক বাহিনী প্রয়োজন। জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে ফুল বেঞ্চের বৈঠকের আগেই পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যের ভোট করতে ঠিক কত সংখ্যক বাহিনী দেওয়া সম্ভব, সেব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট চাইবে কমিশন। পাশাপাশি শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ধারিত দিনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রাজ্যগুলির কাছেও। ভোটের দফা স্থির হয়ে গেলে রাজ্যগুলিতে পরীক্ষা সূচি বিবেচনা করে মার্চের প্রথম বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে। কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখেই অতীতে একাধিক দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু গত এক দশকে হওয়া নির্বাচনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তেমন কোনও বড় ঘটনার উল্লেখ নেই। সব কিছুই কমিশনের ভাবনায় রয়েছে।