ভোটার তালিকার নজরদারিতে আরও সক্রিয় কমিশন, বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে আরও চার জনকে পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে
আনন্দবাজার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে স্বচ্ছতা আনতে পশ্চিমবঙ্গে আরও চার জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে দিল্লি থেকে পাঠানো হচ্ছে। এক জন কাজ করেন ত্রিপুরায়। এর আগে এসআইআরের কাজ তদারকি করার জন্য এক জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন। সুব্রত গুপ্তকে ওই পদে বসানো হয়েছিল। এ বার তাঁর সঙ্গেই কাজ করবেন আরও চার জন।
এসআইআর নিয়ে রাজ্যে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বার বার এসআইআরের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শনিবারই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি-সহ নানান অভিযোগ তুলে ধরেছেন। শুনানিপর্বে পর্যবেক্ষক বা মাইক্রো অবজ়ার্ভারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। ঘটনাচক্রে, সেই দিন রাজ্যে আরও চার বিশেষ পর্যবেক্ষকের নিয়োগের কথা জানাল কমিশন।
রাজ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেলেন চার আইএএস অফিসার। তাঁরা হলেন শৈলেশ, রতন বিশ্বাস, সন্দীপ রাঠৌর এবং বিকাশ সিংহ। পাঁচ বিশেষ পর্যবেক্ষক ছাড়াও রাজ্যে রয়েছেন ১২ জন এসআইআর পর্যবেক্ষক। বিভিন্ন জেলায় নিযুক্ত রয়েছেন তাঁরা। তা ছাড়া আও পাঁচ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা রাজ্যের পাঁচ ডিভিশন— প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বর্ধমান, মালদহ এবং জলপাইগুড়ির এসআইআরের কাজ খতিয়ে দেখেন। এই দায়িত্ব রয়েছেন কুমার রবিকান্ত সিংহ, নীরজ কুমার বানসোড়, অলোক তিওয়ারি, পঙ্কজ যাদব, কৃষ্ণকুমার নিরালা।
বিশেষ পর্যবেক্ষকদের কী দায়িত্ব পালন করতে হবে, তার উল্লেখ রয়েছে তাঁদের নিয়োগপত্রে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর থেকেই এসআইআরের কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন তাঁরা। প্রয়োজনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতে পারে। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না-যায় তা দেখাই তাঁদের দায়িত্ব। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের এ-ও নজরে রাখতে হবে, কোনও অবৈধ ভোটারের নাম যেন ভোটার তালিকায় থেকে না-যায়। এই সব বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের।
কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, তাঁরা দায়িত্বে থাকাকালীন নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে প্রশংসাপত্র দিতে পারবেন না। একান্তই যদি প্রশংসাপত্র দিতে হয় তবে সম্পূর্ণ কারণ উল্লেখ করে কমিশনকে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, বিশেষ পর্যবেক্ষকেরা কমিশনের কলকাতার অফিসে বসে সব এনুমারেশন ফর্ম খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে গোটা রাজ্যে যেতে হবে তাঁদের। এই রাজ্যেই কেন এত পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হচ্ছে কমিশনকে? কমিশন মনে করছে, এসআইআরের কাজে এ রাজ্যে অনেক ডিইও (জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার) এবং ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-র ভূমিকা সদর্থক নয়। তাই তাঁদের কাজের উপর নজরদারির প্রয়োজন। কমিশন জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিএলও, ইআরও, ডিইও-দের গাফলতির জন্য তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) সংখ্যা বেড়ে চলেছে। শনিবার জ্ঞানেশকে লেখা চিঠিতে সেই কথাও উল্লেখ করেছেন মমতা। কমিশনের দাবি, তাঁরা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর চেয়েছিল। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। কমিশন মনে করে, তাঁরা থাকলে হয়তো এ ধরনের গাফিলতি এড়ানো যেত। বিএলও-দের মৃত্যু নিয়ে জেলাশাসকের থেকে রিপোর্ট চাওয়ার পরেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ কমিশনের।