• মুখ্যমন্ত্রীর হাতের সবুজ ফাইলে শিরোনাম-সহ নামের তালিকা! বাজেয়াপ্ত করার জন্য রেখেছিল ইডি, আর কী নিয়ে যান মমতা
    আনন্দবাজার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • ইডির তল্লাশি চলাকালীন লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে একটি নামের তালিকা ছিল বলে খবর। বাজেয়াপ্ত করার জন্য সেই তালিকা আলাদা করে রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা। কিন্তু অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তা জোর করে নিয়ে যান। এ ছাড়াও ইডির বাজেয়াপ্ত করার আগে বেশ কিছু জিনিস প্রতীকের বাড়ি থেকে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী।

    ইডি সূত্রে দাবি, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইপ্যাকের দফতর এবং প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। প্রতীকের স্টাডি টেবিলের উপরেই একটি নামের তালিকা পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা। তাতে ছিল শিরোনামও। আর্থিক তছরুপের সঙ্গে সেই তালিকার কারও যোগ রয়েছে কি না, ইডি খতিয়ে দেখতে চেয়েছিল। তাই ওই তালিকা বাজেয়াপ্ত করার জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে যান। ইডির দাবি, বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও নথিপত্র, নামের তালিকা তিনি নিয়ে চলে যান।

    ১১:৫৯-৪:২৩! সাড়ে চার ঘণ্টা ইডির সঙ্গে সম্মুখসমরে মমতা, লাউডন স্ট্রিট অভিযান ফেরাল সাত বছর আগের রাজীব-স্মৃতি
    প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইডিকে তুলোধোনা করেছিলেন। দাবি করেছিলেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল চুরি করে নেওয়া হয়েছে। সেই সময় তাঁর হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল দেখা গিয়েছে। ফাইলটি স্বচ্ছ ছিল। ভিতরে কী রয়েছে, বাইরে থেকে একটু ভাল করে দেখলে বোঝা যাচ্ছিল। সেখানেও একটি নামের তালিকা দেখা গিয়েছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ কেউ দাবি করেছেন। সে দিন থেকেই সবুজ ফাইল নিয়ে কৌতূহল বেড়ে গিয়েছে।

    কী আছে সেই সবুজ ফাইলে? নামের তালিকাই বা কাদের? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কাদের কোন কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করবে, সেই তালিকা কি প্রস্তুত করা ছিল? মুখ্যমন্ত্রী নিজেও দাবি করেছেন, তাঁর দলের নথি, প্রার্থিতালিকা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে ইডি। আইপ্যাক তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তার কর্ণধারের স্টাডি টেবিলে দলের প্রার্থিতালিকা থাকা অসম্ভব কিছু নয়।

    ইডি সূত্রে খবর, মমতা যখন গিয়েছিলেন, প্রতীক বাড়িতেই ছিলেন। সামনে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি তাঁর কোনও কথা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল ইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলার। তাঁর কাছ থেকেই জোর করে ডিজিটাল নথি মমতা কেড়ে নিয়েছেন বলে আদালতে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    নামের তালিকা ছাড়া লাউডন স্ট্রিট থেকে আর কী কী নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী? ইডি সূত্রে দাবি, একটি ল্যাপটপ এবং একটি আইফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা ছিল ইডির। বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলাকালীনই সেগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবারের ঘটনাপরম্পরা বিস্তারিত বর্ণনা করে রিপোর্ট প্রস্তুত করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইডি আধিকারিকেরা। তা দিল্লির সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পাঠানো হতে পারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা এবং শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া, ইডি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করেছে কলকাতা হাই কোর্টে। পাল্টা তৃণমূলও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলাগুলির শুনানি মুলতুবি রয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)