• অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ার হাতে তৈরি সরস্বতী প্রতিমায় পুজো হবে স্কুলে
    এই সময় | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: প্রতিবেশিকে মূর্তি গড়তে দেখে ইচ্ছে হয়েছিল মূর্তি তৈরি করার। এর পরে মাটির তাল দেখলেই হাত নিশপিশ করত তার। ছোট ছোট মাটির মূর্তি গড়ে প্রতিমা তৈরির চেষ্টা করত সে।

    কিন্তু কে জানত, এই ইচ্ছা এক দিন তার পেশা হবে। এখন নিজের স্কুলের খরচ জোগাতেই পড়াশোনার সঙ্গে পেশাদার প্রতিমা শিল্পী হয়ে উঠেছে আসানসোলের দশম শ্রেণির পড়ুয়া শঙ্কর ধীবর। এ বার নিজের স্কুলেও তার হাতে গড়া বাগদেবীর মূর্তি দিয়ে পুজো করবে সহপাঠীরা। তার প্রতিভা দেখে এলাকার অন্য কয়েকটি স্কুল থেকেও শঙ্করের কাছে বায়না এসেছে। ফলে এখন নাওয়া–খাওয়ার সময় নেই তার।

    আসানসোল পুরসভার ৫৯ নম্বরের নরসমুদা গ্রামের বাসিন্দা শঙ্করের বাবা নব ধীবর খুচরো মাছ বিক্রেতা। তিনি যা উপার্জন করেন, তাতে ছেলে–মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ভাঙা খাটনি খেটে এখন তিনি বেশ অসুস্থ। তাই উপার্জন কিছুটা কমেছে। বাবার এমন অবস্থা দেখে নিজেই নিজের লেখাপড়ার খরচ তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছেলে শঙ্কর। শুরু করেছে প্রতিমা তৈরির কাজ।

    গত চার বছরে ধীরে ধীরে সে পেশাদার প্রতিমা শিল্পী হয়ে উঠছে। শুধু সরস্বতী নয়, লক্ষ্মী, মনসা প্রতিমাও গড়ছে এই স্কুল পড়ুয়া। এ বছর তার কাছে কুড়িটা প্রতিমার বায়না এসেছে। বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৩০ হাজার টাকা রোজগার করছে সে।

    শঙ্কর বলে, ‘কয়েক বছর আগে প্রতিবেশী অর্ধেন্দু দাসকে মনসা ঠাকুর গড়তে দেখে প্রথমে প্রতিমা তৈরি করার ইচ্ছে করেছিল। ওই প্রতিবেশীকে মূর্তি গড়তে দেখে কিছুটা শিখে নিয়ে ছিলাম। তার পরে মাটি দিয়ে ছোট ছোট পুতুল গড়ার চেষ্টা করতাম। বছর চারেক আগে পাড়ার সরস্বতী পুজোয় প্রতিমা বানিয়ে ছিলাম। এক পর থেকেই প্রতিমা তৈরি করে আসছি।’ তার কথায়, ‘বাবার উপার্জনে সংসার ঠিকমতো চলে না। তাই তাঁকে সাহায্য করতেই আমি এটাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছি। পরে সরকারি আর্ট কলেজে পড়ার ইচ্ছে আছে। তাই রোজগার করে এখন থেকে টাকা জমাচ্ছি।’

    স্থানীয় নরসমুদা জনকল্যাণ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টমশ্রেণিতে পড়ে শঙ্কর। ছাত্রের জীবনের কঠিন লড়াইয়ে তার পাশে রয়েছেন স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারাও। তাকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক দীপক মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ও যা করছে, তা গর্বের। স্কুলের ছাত্রের হাতে তৈরি প্রতিমায় পুজো হবে, এটাও খুবই সৌভাগ্যের। পুজোর দিন পনেরো আগে থেকে কাজের ব্যস্ততা বাড়ে। তাই ওকে বিশেষভাবে ছুটি দেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)