• নতুন বুস্টার স্টেশন তৈরির প্রস্তাব, কলকাতায় ভোট প্রচারে জলই অস্ত্র বিরোধীদের
    এই সময় | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: মাস তিনেকের মধ্যেই বিধানসভা ভোটের ঘণ্টা বাজতে চলেছে বাংলায়। অথচ কলকাতার সাবেক পুর এলাকা এবং সংযোজিত এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা এখনও কাটেনি। সঙ্কট কাটাতে পুরসভা ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে ১৯টি বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    তার আগে অনুমোদিত আরও ২১টি বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের কাজ এখন চলছে। কিন্তু শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ৪০টি নতুন বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ কি আদৌ ভোটের আগে শেষ হবে? মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, 'কলকাতার মানুষকে পরিশোধিত পানীয় জল দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' কিন্তু কাজ শেষের 'ডেটলাইন' নিয়ে পুর আধিকারিকরাও নিশ্চিত নন।

    উত্তর কলকাতার শিয়ালদহ থেকে দক্ষিণে গড়িয়া পর্যন্ত চলছে বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ। ভোটের আগে সে কাজ শেষ না–হলে কলকাতায় পানীয় জলের সমস্যাকে হাতিয়ার করে প্রচার চালাবে বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে, সংযোজিত এলাকার যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালার অনেক ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এইসব এলাকায় হাজারখানেক ডিপ টিউবওয়েল চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে পুরসভা। তাই তৃণমূল কাউন্সিলাররা চাইছেন, কাজগুলো ভোটের আগেই শেষ হোক।

    যদিও রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তথা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সজল ঘোষের কথায়, 'পাড়ায় পাড়ায় ঢাকঢোল পিটিয়ে বুস্টার পাম্পিং স্টেশনের উদ্বোধন হয়েছে। কাজ হয়নি। মানুষ পরিশোধিত পানীয় জল এখনও পাচ্ছেন না। বিধানসভা ভোটের আগে পাবেনও না। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা তো চুপ করে বসে থাকবে না।' ঢাকুরিয়ার ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সিপিআইয়ের মধুছন্দা দেব বলছেন, 'আমার ওয়ার্ডেই তো পাম্পিং স্টেশন হয়ে পড়ে আছে। কবে মানুষ জল পাবেন, কেউ জানেন না।'

    পুরসভা সূত্রের খবর, ধাপায় জয়হিন্দ প্রকল্পের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দৈনিক ২০ মিলিয়ন গ্যালন জল পরিশোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন জল শোধনাগার নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাইপাস লাগোয়া দুই দিকের ওয়ার্ডগুলোর পরিশোধিত পানীয় জলের সমস্যা দূর হবে। কাজ শেষের সময়সীমা ছিল ২০২৬–এর জানুয়ারি। ্অথচ এখনও কাজ শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে, সেই উত্তর পুরকর্তাদের কাছেও নেই।

  • Link to this news (এই সময়)