শনিবার দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চম্পাহাটি, গভীর রাতে শহরের হাসপাতালে মৃত এক
প্রতিদিন | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: চম্পাহাটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হল একজনের। মৃত ব্যক্তির নাম গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়। শনিবার গভীর রাতে টালিগঞ্জের এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। শনিবার ভরদুপুরে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি। ঘটনায় অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বছর ৩৫ এর গৌরহরি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই এমআর বাঙ্গুরে নিয়ে আসা হয় গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
শনিবার ঘড়িতে সময় তখন দুপুর প্রায় ১টা। চম্পাহাটির বাজি কারখানায় কাজ চলছিল। তারই মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কারখানাটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, আচমকা অন্তত দু থেকে তিনবার বিকট শব্দ কানে আসে। তাঁরা সকলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন, অদূরে কারখানার একাংশ ধসে পড়েছে। অ্যাসেবস্টাস টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল আশেপাশের আরও তিনটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারখানায় কাজের মাঝেই বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন চারজন। জানা যায়, গৌরহরির গঙ্গোপাধ্যায়ের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশও আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। তাঁর বাড়ি পিয়ালি এলাকায়। এদিন সকালে সেই খবর পৌঁছানো মাত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
অন্যদিকে ঘটনায় আহত আরও দুজন কিষাণ মণ্ডল এবং রাহুল মণ্ডলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে কিষাণ মণ্ডলেরও চিকিৎসা এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালেই চলছে। ঘটনার পরেই প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে বিকট শব্দ কানে আসে অন্তত ২, ৩ বার। তাঁরা বেরিয়ে দেখেন, বাজি তৈরির একটি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিধান মণ্ডল নামে একজন ওই কারখানার মালিক। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই কারখানার মালিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। কেন এই বিস্ফোরণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই বাজি কারখানার লাইসেন্স ছিল কি না। তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।