• আমরা নিজেদের সিনেমার থেকে বড় ভাবতে পারি না: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
    এই সময় | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নতুন বছরে নতুন কী
    এই বছর আমার অনেকগুলো ফিল্ম আসছে। ‘কর্পূর’ আসবে এই বছর। চৈতি ঘোষালের ছবিটাও আছে। মমতা শঙ্করের সঙ্গে, অনুপ দাসের ‘রেখা’ আছে। এ রকম আরও অনেক কিছু আছে। ‘অলীক স্বপ্ন’-তে কাজ করছি কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আমি এই বছর একটা মিউজ়িক্যাল শো করতে চাই। সেটা নিয়ে পরিকল্পনা আছে। এই বছরও নানা ধরনের ফিল্ম করব। গত বছর খুব ভালো কিছু ডা‍ন্স শো করেছি। এই বছরও সে রকম কিছু করার ইচ্ছে আছে।

    আমার একটা কবিতার বই বেরোবে এই বছরের মাঝামাঝি। পকেট বুত। কবিতা না বলে এক্সপ্রেশনস অফ লাইফও বলা যাতে পারে। ফ্রেঞ্চে ট্রান্সলেট করা হবে ছবিটা। আর মায়ের নামে একটা কিছু করব। মা সব সময়ে কারও কষ্ট দেখলেই সেই নিয়ে চিন্তা করতেন। তাঁদের সাহায্য করতে চাইতেন। তাই মায়ের জন্মদিনে একটা ফাউন্ডেশন তৈরি করতে চাই। এই বছর অনেক বই পড়তে চাই। পড়াশোনাটা সে ভাবে করার সময় পাইনি আগের বছর। আর নিজের বুদ্ধিমত্তাটা আর একটু বাড়াব। আমি খুব গালিবল। এ বার প্র্যাকটিকাল সেন্স নিয়ে কাজ করতে হবে। আর ‘নিবলস’, আমার রেস্তোরাঁটা নিয়েও আরও বেশি করে ভাবব এই বছর।

    ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ জুটির ফেরা
    কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটা আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন ছবি নিয়ে। কৌশিকদার সঙ্গে আমাদের দুটো ছবিই খুব প্রশংসিত। ব্যবসাও ভালো। আমরা যে রকম সম্মান করি এই জুটিটাকে, দর্শকরাও করেন। আমরা কখনও এই জুটিকে ক্যাজ়ুয়ালি নিইনি। কখনও কোনও মন্তব্য করা বা কিছু বলে দেওয়া, এ রকম হয়নি আমাদের তরফ থেকে। রেসপেক্ট কাজকে অনেক ভালো জায়গায় নিয়ে যায়। সেটাই ইউএসপি। ১৫ বছর রেসপেক্টফুলি একসঙ্গে কাজ করিনি। আবার যখন করেছি, সেটাকে সম্মান করেছি।

    শেষ বছরের হিসেব-নিকেশ
    আমি গত বছর নানা ধরনের কাজ করেছি। যা নিয়ে খুব গর্বিত। যা পাচ্ছি আমরা সেটাকে সম্মান করতেই হবে। আমি খুব সাটলি সব কাজ করি। অ্যাগ্রেসিভলি কিছু করলেও সেটার মধ্যে সৌজন্য থাকে। আমি মনে করি সিনেমার থেকে বড় কিছু হয় না। আমরা নিজেদের সিনেমার থেকে বড় ভাবতে পারি না। গত বছর মায়ের জন্য খুব ট্রমাটাইজ়ড ছিলাম। এখনও প্রসেস করে উঠতে পারিনি মায়ের না থাকাটা। সেটা নিয়ে ‘পুরাতন’, ‘বেলা’, ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’, ‘গুডবাই মাউন্টেন’, ‘লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল’ করেছি। আরবাজ় খানের সঙ্গে একটা হরর ফিল্ম করেছি। যেটা মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়, সায়ন্তন ঘোষালের সঙ্গে প্রথম কাজ ছিল আমার। ‘পুরাতন’-এ এত বছর পর দর্শকদের কাছে শর্মিলা ঠাকুরকে নিয়ে আসতে পেরেছি।

    ‘গুডবাই মাউন্টেন’ নিয়ে প্যারিসে গিয়েছি। ওখানে ছবিটার মিউজ়িক একটা পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। তাও মনে হয় ইন্ডাস্ট্রি আর দর্শকদের কাছ থেকে আরও কিছুটা সাপোর্ট পেলে ভালো হতো। সিনেমা হল পাওয়া নিয়ে সমস্যা মিটেছে। আমরা প্রাইম-টাইম শো পেয়েছি। যদি আরও একটু বেশি দিন হল পেতাম আর দর্শকরা যদি সিনেমাহলে আরও বেশি করে ছবিগুলো দেখতেন, তা হলে ভালো হতো। অন্য ধরনের সিনেমা করতে বলেন দর্শকরা। তাই সে রকম ছবি করলে তাঁদেরও কিন্তু দেখার একটা দায়িত্ব বর্তায়। এটা মাথায় রাখতে হবে। যখন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘ইচ্ছে’র স্ক্রিপ্ট শুনেছিলাম, মনে হয়েছিল আমি থাকি বা না থাকি, এই ছবিটা হওয়া দরকার। আমি অনেক লড়েছি ছবিটার জন্য। আসলে সব কিছু তো সিনেমাকে ভালোবেসেই।

    পুরস্কার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
    প্রতি বছর অভিনয় করলেই আমি পুরস্কার পাব, এমনটা ভাবি না। কিন্তু যখন দেখলাম ‘অযোগ্য’ বা ‘দাবাড়ু’র মতো ছবির জন্যও পুরস্কার পাইনি, খারাপ লেগেছিল। পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন ইক্যুয়েশন কাজ করে ঠিক জানি না। আমি বিশ্বাস করি অরগ্যানিক ভাবে ভালো কাজ করলেই পুরস্কার পাওয়া যায়। তবে দুবাইতে এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমি কিন্তু বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে রিপ্রেজ়েন্ট করেছি। ইন্ডাস্ট্রির জন্য যা যা করা সম্ভব হবে, আমি করব। আমার প্রযোজনা সংস্থা থেকেও ফিল্ম বানাব। অ্যাড ফিল্মও বানাচ্ছি আমরা এখন।

    পেডিয়াট্রিক ক্যান্সার পেশেন্টদের জন্য
    ‘লাইফ বিয়ন্ড ক্যান্সার’-এর ফেস আমি। পেডিয়াট্রিক ক্যান্সার পেশেন্টদের নিয়ে কাজ করি এখানে। ফান্ড রেজ় করার জন্য অনুষ্ঠান করি। এইবারও করব। নৃত্যশিল্পী অভিরূপ সেনগুপ্তর সংস্থা ‘প্রয়াস’-এর বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের সঙ্গেও জন্মদিন পালন করি। আমরা এই বছর একটা ক্যালেন্ডারও তৈরি করেছি। হিউম্যান ক্যাপাসিটিতেও কিছু করার চেষ্টা করি। কারণ আমরা এগিয়ে না এলে আর কে করবে?
  • Link to this news (এই সময়)