দত্তক নেওয়া সন্তানকে চাকরির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানাল ওডিশা হাইকোর্ট। কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর দত্তক নেওয়া সন্তানের চাকরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দত্তক প্রক্রিয়া আগে সম্পন্ন হোক বা দত্তকের নথিভুক্তি ও আইনি স্বীকৃতি পরে হলেও সেই দত্তক নেওয়া সন্তান চাকরির সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবে বলে রায় দিয়েছে আদালত।
এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র দত্তক সংক্রান্ত নথি কর্মীর মৃত্যুর পরে হয়েছে— এই যুক্তিতে চাকরির আবেদন খারিজ করা আইনসঙ্গত নয়। আদালতের মতে, দত্তকের বাস্তবতা ও পারিবারিক সম্পর্কই এখানে মূল বিষয়।
বিচারপতি দীক্ষিত কৃষ্ণ শ্রিপদ এবং বিচারপতি শিব শঙ্কর মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি কেন্দ্র সরকার ও রেলওয়ের দায়ের করা একটি আবেদন খারিজ করেছে। ওই আবেদন কটক সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (CAT)-এর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হয়েছিল।
এই মামলার সূত্রপাত কে সাধু পাত্র নামে এক প্রাক্তন রেলকর্মীকে ঘিরে। তিনি ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল কর্মরত অবস্থায় মারা যান। তাঁর স্ত্রী কে সুভদ্রা পাত্র এবং দত্তক নেওয়া পুত্র কে আদম্মা পাত্র সহানুভূতিশীল নিয়োগের আবেদন করেন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সেই আবেদন খারিজ করেন। তাদের যুক্তি ছিল, সাধুর মৃত্যুর সময় দত্তকের বৈধ প্রমাণ ছিল না এবং দত্তক সংক্রান্ত দলিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হয়েছে, যা কর্মীর মৃত্যুর পরের ঘটনা।
তবে রেলের এই এই অবস্থান মানতে নারাজ ওডিশা হাইকোর্ট। আদালত জানায়, ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেওয়া একটি দেওয়ানি আদালতের ডিক্রিতে আদম্মা পাত্রকে সুভদ্রা ও সাধু পাত্রের দত্তক সন্তান হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ডিক্রি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে কোনও আপিল দায়ের হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একবার কোনও বিচারিক ঘোষণা চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা উপেক্ষা করার অধিকার কোনও দপ্তরের নেই। সেই কারণে রেলওয়ে দত্তক নেওয়া সন্তানকে চাকরির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। এই রায় ভবিষ্যতে সহানুভূতিশীল নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।