• এবার ডুয়ার্সে জঙ্গল সাফারি হবে টয় ট্রেনে
    আজকাল | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: জঙ্গল সাফারি বলতে এতদিন ডুয়ার্সের গভীর অরণ্যে হুডখোলা জিপ বা হাতির পিঠে চেপে বনভ্রমণের ছবিই চোখে ভাসত। ভয় আর ভাললাগার মিশেলে তৈরি সেই চেনা অভিজ্ঞতাই ছিল জঙ্গল সাফারির মূল আকর্ষণ।

    তবে এবার সেই ধারণায় বড় বদল। কারণ, এবার জঙ্গল সাফারির রোমাঞ্চ মিলবে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে। টয় ট্রেনের যাত্রাপথের একটি বড় অংশ মহানন্দা অভয়ারণ্য সংলগ্ন।

    জানা গিয়েছে, সেই অভয়ারণ্যের বুক চিরেই এবার থেকে ছুটবে টয় ট্রেন। ‘জঙ্গল সাফারি’ নামে এই নতুন পরিষেবা রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে গয়াবাড়ি পর্যন্ত সপ্তাহে দু’দিন চলবে এই বিশেষ ট্রেন।

    প্রায় ছ’বছর পর পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ফের চালু হল টয় ট্রেনে জঙ্গল সাফারি। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া পর্যটন মহলে।

    টয় ট্রেনের ঐতিহ্যবাহী সফরের যাত্রাপথে পর্যটকরা উপভোগ করতে পারবেন চা বাগানের সবুজ, পাহাড়ি প্রকৃতির সৌন্দর্য ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতির রঙ।

    পাহাড়, বন ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনই জঙ্গল সাফারির মূল আকর্ষণ। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, ‘চলতি পর্যটন মরশুমে শুধু জঙ্গল সাফারিতেই থেমে থাকছি না। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে আরও নতুন সাফারি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ছ’বছর পর এই পরিষেবা ফের শুরু হওয়ায় স্থানীয় পর্যটনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও গতি আসবে। দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের তুলনায় গয়াবাড়ি রুটের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। পিপিপি মডেলে পরিষেবা চালুর মূল উদ্দেশ্যই হল স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি আরও জানান, ‘রাতে কোনও টয় ট্রেন চলবে না। দিনের বেলাতেই দু’টি রাইড সম্পন্ন হবে। নতুন ইঞ্জিন আনা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেগুলি এই রুটে নামানো হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ আমলের কিছু পুরনো কোচ পুনর্নির্মাণ করে এই পথে চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।’

    অন্যদিকে পর্যটক রাজকুমার আগরওয়াল বলেন, ‘টয় ট্রেনের সঙ্গে আমাদের বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। জঙ্গল সাফারির কথা শুনেই পুরো কামরা বুক করেছি। আমরা তিন ধারিয়া পর্যন্ত যাব এবং সেখানেই পিকনিকের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিষেবা চালু হওয়ায় পর্যটকদের জন্য অনেক সুবিধে হবে।’

    পিপিপি মডেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কর্ণধার সঞ্জয় গোস্বামী জানান, ‘আপাতত আমাদের কাছে দু’টি বগি রয়েছে। পর্যটকদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকালের ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নভোজ ও বিকেলের টিফিন পর্যন্ত। গয়াবাড়ি পৌঁছে ছোটখাটো খেলাধুলার ব্যবস্থাও থাকবে। আমরা পর্যটকদের তরফে ভাল সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’
  • Link to this news (আজকাল)