• SIR এর কাজের চাপে ফের আত্মহত্যা BLO র? স্কুলে উদ্ধার শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ
    আজ তক | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজ্যে ফের BLO-র মৃত্যুর অভিযোগ। ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা। পরিবারের দাবি, SIR-এর কাজের চাপে আত্মহত্যা করেছেন বুথ লেভেল অফিসার হামিমুল ইসলাম। পেশায় শিক্ষক ছিলেন। শনিবার রাতে স্কুলের মধ্যেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে এসআইআর প্রক্রিয়া। অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রানিতলা থানার অন্তর্গত পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ় স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন হামিমুল ইসলাম। বাড়ি ভগবানগোলার আলাইপুর এলাকায়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারও অন্যান্য দিনের মতো সকালেই স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। খড়িবোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব আলাইপুর বুথে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হামিমুল। স্কুলের কাজের পাশাপাশি এসআইআরের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছিল তাঁকে।

    কিন্তু শনিবার স্কুল ছুটি হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি প্রধানশিক্ষক। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু করেন। পরে তাঁরা পাইকমারি চর কৃষ্ণপুর বয়েজ় স্কুলে যান। গভীর রাতে স্কুলের একটি ক্লাসঘরের ভিতর থেকে হামিমুলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে রানিতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ উদ্ধার করে নসিপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা হামিমুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।

    মৃতের পরিবার এসআইআরের কাজের চাপকেই দায়ী করেছে। হামিমুলের দাদা ফরমানুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ভাই প্রবল মানসিক চাপে ছিল। স্কুলের দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে এসআইআরের কাজ সামলাতে গিয়ে তিনি ভেঙে পড়ছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, সেই মানসিক চাপই তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

    এই ঘটনায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার। তিনি একযোগে বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। বিধায়কের বক্তব্য, বিজেপির চাপে নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে এসআইআরের কাজ শেষ করতে চাইছে। তার জেরেই প্রত্যেক বিএলও-র উপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপছে। সকলের পক্ষে সেই চাপ নেওয়া সম্ভব নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি। রিয়াত হোসেন সরকারের দাবি, হামিমুলের উপর 'ম্যাপিং' এবং 'আনম্যাপিং'-এর মতো একাধিক দায়িত্ব চাপানো হয়েছিল।

    এই মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত আট জন বিএলও-র মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারগুলির। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ এক, এসআইআরের কাজের অসহ্য চাপ। এই বিষয়টি নিয়ে আগেও সরব হয়েছে শাসকদল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে এই মৃত্যুগুলি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    প্রসঙ্গত, এর আগেও বাঁকুড়ার রানিবাঁধে এসআইআরের কাজের চাপে এক প্রধানশিক্ষক তথা বিএলও-র আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছিল। একটি ক্লাসরুম থেকেই উদ্ধার হয়েছিল তাঁর ঝুলন্ত দেহ। সেখান থেকেও মিলেছিল চাপ সহ্য করতে না পারার কথা লেখা সুইসাইড নোট।  
  • Link to this news (আজ তক)