জগদ্দলে বিজেপির BLA-র বাড়িতে আগুন, অভিযোগ তৃণমূলের দিকে
আজ তক | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার গভীর রাতে জগদ্দল বিধানসভার উচ্ছেগড় এলাকায় কাউগাছি শালবাগানের ৭৭ নম্বর বুথে বিজেপির বুথ সভাপতির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতিদের দিকে। মাঝরাতে পরিবারের লোকজন দেখেন বাড়ির আশপাশে আগুন জ্বলছে। যদিও এই ঘটনায় কারোর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সুজিত বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্যই এই আগুন লাগানো হয়েছিল। এই গোটা ঘটনার পিছনে তৃণমূলকেই দায়ি করেছে বিজেপি।
জানা গিয়েছে শালবাগান এলাকার ৭৭ নম্বর বুথের বিজেপির বিএলএ ২ হচ্ছেন সুজিত বিশ্বাস। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তিনি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলেই তাঁকে মারতে চাইছে শাসক দল, অভিযোগ সুজিত বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের। এর আগেও বিজেপি নেতাকে হুমকি দিয়েছিল তৃণমূল, দাবি করেন তিনি। সুজিত বিশ্বাসের অভিযোগ, রাত দুটো নাগাদ ভাইপো বাথরুম করতে উঠে দেখতে পায় বাইকে আগুন জ্বলছে।ঘরের চারপাশে পেট্রোল ছেটানো। তাড়াতাড়ি সে আগুন নেভায়। তাঁর দাবি, বিজেপি করার অপরাধে তাদেরকে পুড়িয়ে মারার চক্রান্ত করা হয়েছে। এর আগেও বাড়িতে এসে তাকে মারধর করেছিল তৃণমূলের লোকজন। আতঙ্কিত প্রতিবেশিরাও। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী দিপালী মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন বলে জানান সুজিত।
সুজিতের ভাইপো পাপাই বিশ্বাস জানান, রাত দুটো নাগাদ বাথরুমে যাওয়ার জন্য উঠে বাইরে এসে দেখি আমার বাইকের পিছনে দিকটা আগুন জ্বলছে। সামনে কিছু প্লাস্টিকেও আগুন ধরানো হয়েছে। তারপরে আমি এবং আমার মা দুজনেই জল ঢেলে সেই আগুন নেভাই। কাকা সজীব বিশ্বাস বিজেপি করে। কিন্তু কে আগুন ধরিয়েছে বলতে পারব না। এই ঘটনায় বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনও পার্থক্য নেই। বাংলাদেশে যা যা হচ্ছে এখানেও তাই হচ্ছে। সুজিত বিশ্বাসকে মেরে ফেলার একটা চক্রান্ত করা হয়েছে। বুথ সভাপতির বাড়িতে যান বিজেপি নেতা প্রিয়াঙ্গু পান্ডে।
জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম জানান এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে এটা মিথ্যা অভিযোগ। শীতকালে যেকোনও কারোর বাড়িতে আগুন লেগে যেতে পারে। বিএলএ ২-এর বাড়িতে কেন আগুন লাগানো হবে? তাঁরা এত সুন্দর করে SIR করছেন, কোথাও কোনও গন্ডগোল হয়নি। এটা মিথ্যা একটা অভিযোগ। বিজেপি মানেই মিথ্যে, দাবি তৃণমূল বিধায়কের। এই ঘটনার পর আতঙ্কিত গোটা বিশ্বাস পরিবার। বাসুদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।