ওড়িশায় ফের নিগৃহীত বাংলার শ্রমিক, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে কাজের সন্ধানে ওড়িশার কটকে গিয়েছিলেন তিনি। গোঘাটের ভাদুর পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবকের অভিযোগ, তিনি বাংলায় কথা বলতেন বলেই স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে বারবার হুমকি দিত। ধীরে ধীরে আতঙ্ক এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, ভয়ে লুকিয়ে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। যে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন, সেই বাড়ির মালিকও অশান্তির আশঙ্কায় বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দিতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যেই বুধবার রাতের দিকে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন রাজা। তাঁর অভিযোগ, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। রাজা জানান, ‘বাংলায় কথা বলাটাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমাকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে মারধর করা হয়।’ তাঁর আরও দাবি, তাঁকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর পরেই আট মাস ধরে কষ্ট করে জমানো ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। প্রাণের ভয়ে রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে ওড়িশা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
রাজার কথায়, তাঁদের গ্রামে প্রায় ১৭০টি পরিবার বসবাস করে। গ্রামের বহু পুরুষ ভিন্রাজ্যে কাজ করেন। বিজেপিশাসিত রাজ্যে এক বাঙালি শ্রমিকের উপর এই ধরনের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রাজা আলির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, এ রকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি।