• 'কোথায় রোহিঙ্গা! এসআইআর-এ মতুয়াদের নামই সবচেয়ে বেশি বাদ যাবে', বাঁচার উপায় বললেন মমতাবালা
    ২৪ ঘন্টা | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিধান সরকার: এসআইআরের ফলে সবচেয়ে বিপদে মতুয়ারা। তাদের নামই বেশি বাদ যাবে। চাই তরম আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। এখন লড়াই ছাড়া আর কোনও পথ নেই।  হুগুলির চুঁচুড়ায় মতুয়া মহাসংঘের বার্ষিক সভায় এসে এমন কথা বলেন রাজ্য সভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর।

    মতুয়ারা বহুদিন ধরেই আন্দোলন করে  আসেছেন যা তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। বিজেপি এনিয়ে বহু আশ্বাস দিলেও এসআইএর-এ অনেকেই সমস্যা পড়েছেন। চুঁচুড়ায় আজ মমতাবলা বলেন, মতুয়ারা ভয়ে আছে,বিজেপি এক এক সময় একেক রকম কথা বলছে। শান্তনু ঠাকুর বলছে,পঞ্চাশ লক্ষ যদি রহিঙ্গা বাংলাদেশী বাদ যায় তাহলে এক লক্ষ মতুয়া বাদ গেলে কিছু যায় আসে না। কোথায় সেই পঞ্চাশ লক্ষ রহিঙ্গা? তাদের ভোট নিয়ে এখন হয়রানি করা হচ্ছে। আদৌ তারা ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়ে একটা সংশয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আবার বলছে সিএএ এর তথ্য দিতে। ২০১৯ থেকে কতজনকে মানুষকে তারা নাগরিকত্ব দিয়েছে? সুপ্রিম কোর্ট বলছে সিএএ তে আবেদন করলেই সে যে নাগরিকত্ব পাবে তা ভুলJ তথ্য দিয়ে আগে নাগরিকত্ব পাবে তারপর ভোটাধিকার। এত ভাওতা এত মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এরা মানুষকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে।

    মমতাবালা বলেন, আমরা এর জন্যই বারবার গেছি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি যে আপনারা আধার কার্ডটা মাস্ট করুন। যারা মৃত এবং ভুয়ো ভোটার তাদের নাম বাদ যাক কিন্তু যাদের ভোট ২০০২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নিল সরকার তৈরি হল, এখন তারা বলছে তারা বৈধ নয়। তাহলে তো সরকারই বৈধ নয়। তাহলে সরকার ফেলে দিক। এরপর এসআইআর হোক। নির্বাচন হোক। মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলছে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে মানুষ মারা যাচ্ছে । এক একটা পরিবার শেষ হয়ে যাচ্ছে একটা ভোটের জন্য। এর জবাব কে দেবে। নির্বাচন কমিশন দেবে?  নরেন্দ্র মোদী, অমিত শা দেবে?

    বিজেপিকে বিঁধে মমতাবালা বলেন, সেদিন বনগাঁয় সুকান্ত মজুমদার এসে বলছেন একটা মতুয়ারও ভোট কাটবে না। আর মতুয়া ঘরের ছেলে শান্তনু বলছে এক লক্ষ কেটে গেলেও কিছু যায় আসে না। শুভেন্দু অধিকারী বলছে মতুয়া নাম বাদ যাবে না। এরা নাটক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর কত মানুষকে বিভ্রান্ত করবে?

    মতুয়াদের আশ্বাস দিয়ে তৃণণূল সাংসদ বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা বলছেন একটা বৈধ  নামও যদি কাটে তাহলে দিল্লির বুকে লড়াই হবে। একমাত্র লড়াই ছাড়া আর কোন পথ নেই। সঙ্গবদ্ধ ভাবে লড়াই করতে হবে। আইন পরিবর্তন করতে হবে। দিল্লিতে এর আগে কৃষক আন্দোলন ৭০০ লোক মারা গিয়েছিল কিন্তু মোদির কোমর ভেঙে দিয়েছে আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। আরাবল্লী নিয়ে যেটা হল সবই আন্দোলনের ফলে হয়েছে। সেই জায়গায় যেতে হবে।

    মতুয়াদের বলব ভোট কাকে দেবেন না দেবেন সেটা ঠিক করবেন আপনি। কিন্তু নাম একবার কেটে গেলে তার বংশের কারো নাম ভোটার লিস্টে উঠবে না। ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে গোলামী করাবে।


    এখনো পর্যন্ত যা নাম বাদ যাবার আশঙ্কা রয়েছে বুথে বুথে তাতে মতুয়াদেরই বেশি নাম বাদ যাবে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)