বেআইনি নির্মাণে পাশের বাড়িতে ফাটল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাই কোর্টের
প্রতিদিন | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
গোবিন্দ রায়: বেআইনি নির্মাণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি। ঘরের বিভিন্ন দেওয়ালে মারাত্মক ফাটল। বেআইনি নির্মাণ ঘিরে হওয়া এক মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ।
প্রায় বছর তিনেক আগে হুগলির শ্রীরামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসসি ঘোষ লেনে একটি বেসরকারি আবাসন নির্মাণ শুরু হয়। কাজ শুরু হতেই পার্শ্ববর্তী একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী প্রোমোটারের বিরুদ্ধে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চাননি। তবে নির্মাণস্থলের একেবারে পাশেই বাড়ি দেবপ্রসাদ বসাকের। তার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শ্রীরামপুর পুরসভায় বিষয়টি জানান। সুরাহা না পেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলাটি ওঠে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। বিচারপতি সিনহা বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ সেই নির্দেশ বহাল রাখেন।
অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরও শ্রীরামপুর পুরসভা কোনও পদক্ষেপ করেনি। এদিকে রায়কে চ্যালেঞ্জ করে নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার সন্তোষ চৌধুরী কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেন। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর ডিভিশন বেঞ্চে যায় নির্মাণকারী সংস্থা। সেখানেও তথ্য গোপনের অভিযোগে সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। এরপর ফের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে তাঁর রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় নির্মাণকারী সংস্থা।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে দাবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ অবৈধ নির্মাণ কার্যের জন্য আবেদনকারীর বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ শ্রীরামপুর পুরসভাকে নির্দেশ দেন, কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির ক্ষতির পরিমাণ সমীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট জমা পড়তেই হাই কোর্ট ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।