এসআইআরের অসহনীয় কাজের চাপ, স্কুলের মধ্যেই আত্মঘাতী বিএলও
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষকতার পাশাপাশি এসআইআরের কাজের চাপ দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছিল হামিমুল ইসলামের কাছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ‘ম্যাপিং’ ও ‘আনম্যাপিং’-এর মতো জটিল কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। পরিবারের এক সদস্য জানান, একদিকে স্কুলের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, অন্যদিকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন— এই দুইয়ের ভার সামলাতে গিয়ে তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালেও অন্যান্য দিনের মতো স্কুলে যান হামিমুল ইসলাম। সাধারণত বিকেল ৩ থেকে ৪টার মধ্যে তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের লোকজন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে তল্লাশি চালান। তখনই একটি ঘরের ভিতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় হামিমুলের দেহ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে রানিতলা থানার পুলিশ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই মৃত্যুর পিছনে এসআইআরের কাজের চাপই মূল কারণ।
মৃতের দাদা ফরমান উল কালাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেভাবে এসআইআরের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল, তা আমার ভাই মানসিকভাবে নিতে পারেনি। সেই কারণেই তাঁকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে।’
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার। তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে দায়ী করে বলেন, ‘বিজেপির চাপে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে এসআইআরের কাজ শেষ করতে চাইছে। তার জেরে বিএলওদের উপর অমানবিক কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলেই একের পর এক নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।’
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি, শিক্ষকদের উপর নির্বাচনী কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং তার মানসিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।