পিয়ালী সেন: বাপি সেনকে মনে আছে? ২০০২ সালে বর্ষবরণের রাতে পার্কস্ট্রিটে সহকর্মীদের হাতে খুন হন কলকাতা পুলিসের তত্কালীন এই সাজেন্ট। সেই বাপি সেনের ছেলেকেই এবার প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিস! আলিপুর আদালতে পেশ করার পর, তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
গতকাল শনিবার রাতে বেহালার পর্ণশ্রীর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় সার্জেন্ট বাপি সেনের ছেলে শঙ্কশুভ্রকে। সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বর মাসে দিল্লি পুলিসের সাইবার থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যক্তি। অভিযোগকারীর দাবি, বিনিয়োগের নাম করে তাঁর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ওই টাকা যে অ্য়াকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে, কলকাতায় বসে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলছেন শঙ্কশুভ্র! এরপরই বেহালায় বাপি সেনের বাড়িতে হানা দেয় পুলিস। বাপির সেনের পরিবারের দাবি, অল্প কিছু টাকার প্রলোভনে পা দিয়েই এই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন শঙ্কশুভ্র। এক পরিচিতি ব্যক্তি নাকি টাকা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে দিতে বলেছিলেন!
২০০২ সালে ৩১ ডিসেম্বর। দু'দশক আগে বর্ষবরণের রাতে খবরের শিরোনামে চলে এসেছিল কলকাতা পুলিসের সাার্জেন্ট বাপি সেনের নাম। তখনও বর্ষবরণের রাতে উদযাপনের এতটা বাড়বাড়ন্ত ছিল না শহরে। তবে পার্কস্ট্রিটের আলোকসজ্জা বলে দিত, নতুন বছর আসছে। ডিউটি করতে নয়, বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ পোশাকেই সেদিন পার্কস্ট্রিটে গিয়েছিল বাপি। হঠাত্ তিনি দেখেন, একজন তরুণীকে উত্যক্ত করছেন কয়েকজন মদ্যপ পুলিসকর্মীরা। ওই তরুণীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান বাপি। সহকর্মীদের আচরণের প্রতিবাদ করেন তিনি। যার ফল হয়েছিল মারাত্বক।
অভিযোগ, হিন্দ সিনেমার সামনে বাপিকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন অভিযুক্তরা। এরপর ৫ দিনে ধরে হাসপাতালে যমে-মানুষ টানা চলে। কিন্তু শেষপর্যন্ত বাপিকে বাঁচানো যায়নি। ২০০৩-র ৬ জানুয়ারি মৃত্যু হয় ওই সার্জেন্টের।
এদিকে বাপি যখন অভিযুক্তদের বাধা দিচ্ছিল, তখন সঙ্গী যুবকের বাইকে চেপে পালিয়ে সক্ষম হন ওই তরুণী। সেই আক্রোশেই কলকাতা কলকাতা পুলিসের সার্জেন্টকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওই তরুণী কিন্তু আর কোনওদিনই প্রকাশ্যে আসেননি। ফলে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল? তা জানা যায়নি আজও। স্বামীর মৃত্যুর পর কলকাতা পুলিশের অস্ত্র আইন বিভাগে চাকরি পান বাপি সেনের স্ত্রী সোমা।