• ২০০২–এর ভোটার তালিকায় নাম নেই, SIR–এর শুনানিতে হাজিরা যাদবপুরের উপাচার্যের
    এই সময় | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ২০০২–এর ভোটার তালিকায় নাম না–থাকায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে হাজিরা দিতে হলো স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ‘সার’–এর শুনানিতে। রবিবার যাদবপুরের কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যালয়ে হাজিরা দেন তিনি। ওই হাজিরা দেওয়ার পরে চিরঞ্জীব বলেন, ‘গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে আমি ভোট দিচ্ছি। জীবনের বেশির ভাগ সময়ে আমি কলকাতাতেই থেকেছি। আমি আর যা–ই হই, ভিনদেশি নই।’

    ২০০২–এর আগে চিরঞ্জীব থাকতেন কাঁকুড়গাছি এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে। ২০০২–এ তাঁর ঠিকানা বদল হয়। সপরিবার তিনি চলে আসেন যাদবপুর এলাকার যে জায়গায় এখন তিনি থাকেন, সেখানে। তার জন্য ২০০২ সালের ভোটার লিস্ট থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে। ফলে ‘সার’–এর প্রথম পর্বে খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। চিরঞ্জীবের বক্তব্য, ‘এই কাজটা করার আগে আরও পিছনে গিয়ে সবটা খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। ১৯৯৯, ২০০১ সালেও আমি ভোট দিয়েছি। ২০০২–এর পরেও ভোট দিয়েছি। যদি আগের রেকর্ডগুলো খতিয়ে দেখা হতো, তা হলে হয়তো এই সমস্যা হতো না।’

    বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব পড়াশোনা করেছেন বাঙুর অ্যাভিনিউয়ের একটি স্কুলে। তার পরবর্তী শিক্ষা তিনি নেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েই। দীর্ঘদিন সেখানে তিনি অধ্যাপনা করেন, তার পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথমে রেজিস্ট্রার ও পরে সহ–উপাচার্য হন। এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে থাকার পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলের তিনি সভাপতিও। তার পরেও তাঁকে এই ভাবে তাঁকে হাজিরা দিতে হচ্ছে দেখে শিক্ষা মহলের অনেকেই স্তম্ভিত।

    এ দিন যে স্কুলে চিরঞ্জীব হাজিরা দিতে যান, সেখানে বহু প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে। যাঁদের একাংশ ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারেন না। তা সত্ত্বেও অসুস্থ, অশক্ত শরীরে তাঁদের আসতে হয়েছিল নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে। সে সব বিষয় নিয়ে যাদবপুরের ভিসি এ দিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে কিছু দিন আগে মৌলালি যুবকেন্দ্রে ‘বাংলা একতা মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত ‘সার’–বিরোধী সভায় গিয়ে বাংলা ভাষা ও বাঙালিয়ানার স্বাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)