তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির দাবিতে শনিবার চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান বিক্ষোভেও বসেছিলেন শুভেন্দু। অভিযোগ, তার পরেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এরই মধ্যে রবিবার শুভেন্দু-সহ ১০ জন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল নেতা মণিকাঞ্চন রায়। আর সেই অভিযোগের পরেই পুলিশ মামলা রুজু করেছে।
শনিবার পুরুলিয়ার জনসভা থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডের উপর দিয়ে যাচ্ছিল শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়। সেই সময়ে বিরোধী দলনেতার কনভয় ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপি কর্মীদের উপরে চড়াও হয়ে মারধর করে। এমনকী, শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতেও তাঁরা হামলা চালায়। এর পরেই দোষীদের শাস্তির দাবিতে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনায় তৃণমূলের ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু।
কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভে বসার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ জামিন অযোগ্য কোনও ধারাই প্রয়োগ করেনি পুলিশ। শেষমেশ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে চন্দ্রকোনা রোড ছাড়েন শুভেন্দু। এ দিকে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার শুভেন্দু-সহ ১০ জন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করলেন মণিকাঞ্চন রায়। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই বর্তমানে সরগরম রাজনৈতিক মহল।
জেলা পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি বলেছেন, ‘দু'পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’ অভিযুক্ত যুব নেতা দেবাঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করছিলাম রাস্তার পাশে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরাই আমাদের উপরে চড়াও হন। পরে সেখানে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছলে তাঁর দেহরক্ষীরাও আমাদের উপর হামলা চালায়। উল্টে উনি অভিযোগ করছেন, আমরা নাকি বাঁশ, লাঠি, কেরোসিন-পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে ওনাকে মেরে ফেলতে চেয়েছি। আমরা চ্যালেঞ্জ করছি, উনি সেটা প্রমাণ করুন। উনার গাড়িতে তো নাকি ৩৬০ ডিগ্রির ক্যামেরা লাগানো থাকে। উনি সেই ফুটেজ দেখিয়ে প্রমাণ করুন।’