• সাময়িক গতিরোধ ‘উত্তুরে’ হাওয়ার, মকর সংক্রান্তির আগেই ফিরতে চলেছে শীত
    এই সময় | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ সরাসরি বাংলার আবহাওয়াকে প্রভাবিত করেনি। তবে, ওই নিম্নচাপের একেবারে বাইরের দিকের মেঘের বলয়ে (ক্লাউড ব্যান্ড) সাময়িক ভাবে বাধা পেল দেশের উত্তর–পশ্চিম থেকে ঢুকে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ। সেই কারণেই শনিবার কলকাতার তাপমাত্রা শুক্রবারের তুলনায় সাড়ে তিন ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছে গিয়েছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আলিপুর হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী ৪ জানুয়ারির (১৫.২) সাত দিন পরে এই প্রথম শহরের রাতের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির ঘরে উঠল। অন্য দিকে, রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তথ্য অনুযায়ী ৩ জানুয়ারির (২৩.৪) আট দিন পরে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ফের ২৩ ডিগ্রির ঘরে।

    তা হলে কি কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গে শীতের বিদায়বার্তা শুরু হয়ে গেল? এই প্রসঙ্গে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, ‘শীত এখনই যাচ্ছে না। দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপের প্রভাবে সাময়িক ভাবে ‘উত্তুরে’ হাওয়ার গতিরোধ হয়েছে মাত্র। তাই কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকেই ফের শীতের কামড় অনুভূত হবে।’

    সাধারণত পৌষের শেষে শীতের তীব্রতা কিছুটা বাড়ে। বিশেষ করে মকর সংক্রান্তির সময়ে দক্ষিণবঙ্গে জমিয়ে শীত না পড়লে বিষয়টিকে কিছুটা ‘অস্বাভাবিকই’ মনে করা হয়। তবে গত পাঁচ বছর মকর সংক্রান্তির আবহাওয়ার তথ্য বলছে, ওই দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একবার ছাড়া বাকি বছরগুলোয় ১৬ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। আবহবিদদের একাংশ মনে করছেন, এ বছর ওই দিনের তাপমাত্রা গত পাঁচ বছরের চেয়ে অনেকটাই নীচে থাকবে।

    আবহবিদরা মনে করছেন, সাময়িক ছেদের পরে শীতের এই প্রত্যাবর্তন–পর্বে কলকাতার রাতের তাপমাত্রা ফের ১০–১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামবে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুয়োর নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও খুব বেশি।

  • Link to this news (এই সময়)