গোবর থেকে ক্যানসারের ওষুধ? গবেষণার নামে সাড়ে ৩ কোটি টাকা নয়ছয় মধ্যপ্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে
বর্তমান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ভোপাল: গোবর, গোমূত্র দিয়ে তৈরি পঞ্চগব্য কি ক্যানসার সারাতে পারে? এই নিয়ে গবেষণার জন্য মধ্যপ্রদেশের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটিকে সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়েছিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। ২০১১ সালে ওই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু সেই গবেষণার ফলাফল কী? তা জানতে সম্প্রতি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোবর-গোমূত্র থেকে ক্যানসারের ওষুধ তৈরি নিয়ে গবেষণার নামে নয়ছয় করা হয়েছে সরকারি টাকা। প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ হয়েছে শুধু গোবর, গোমূত্র, বাসন ও অন্যান্য কাঁচামাল কিনতেই! এমনকী, জব্বলপুরের ওই পশুবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গোয়া ও বেঙ্গালুরু সফরেও জলের মতো অর্থ খরচ হয়েছে। কেনা হয়েছে গাড়িও। গবেষণার ফলাফল জানতে তদন্তকারীর দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলাশাসক। ওই তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেভাবে গবেষণার নামে টাকা খরচ করা হয়েছে বিস্ময়কর। প্রতিটি জিনিস বাজারমূল্যের থেকে বেশি দামে কেনা হয়েছে। প্রস্তাবিত সামগ্রীর বাইরেও বিভিন্ন দামী জিনিসপত্র কেনা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ৮ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সাড়ে তিন কোটি টাকাই প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ হয়। ২০১২ সালে গবেষণা শুরু হয়। চলে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।
তদন্তে দেখা গিয়েছে, গোবর, বিভিন্ন মেশিন সহ যে সব সামগ্রী ১৫-২০ লক্ষ টাকাতেই পাওয়া সম্ভব, তার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। গবেষকরা ২৩ থেকে ২৪ বার বিমানে গোয়া, বেঙ্গালুরু সহ বিভিন্ন শহরে গিয়েছেন। এছাড়া সাড়ে সাত লক্ষ টাকায় একটি গাড়ি কেনা হয়েছে। যা সরকারকে জমা দেওয়া প্রাথমিক তালিকায় ছিল না। গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। হিসাব বহির্ভূতভাবে ১৫ লক্ষ টাকার টেবল, বৈদ্যুতিন সামগ্রী কেনা হয়েছে। শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, এত খরচের পরেও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য কিছুই পাওয়া যায়নি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক রঘুবর মারাভি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কী প্রশিক্ষণ, তার কোনও উল্লেখও নেই। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রার ডঃ এস এস তোমারের দাবি, ‘সব কিছুই নিয়ম মেনে হয়েছে। এখনও আমরা তরুণ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’