লাগাতার নিয়ম ভাঙলে বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন
বর্তমান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জরিমানার টাকা জমা পড়ছে মাত্র ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৬২ শতাংশ গাড়ির মালিকই ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলেও জরিমানা দেন না। তাই এবার কড়া হচ্ছে কেন্দ্র। ইচ্ছাকৃত হোক বা অজান্তে, লাগাতার ট্রাফিক নিয়ম ভেঙে ‘চালান’ পেলে বাতিল হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। গত তিন বছরে যদি একবারের জন্যও কারও লাইসেন্স বাতিল হয়, তাহলে ওই ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স আর পুনর্নবীকরণ হবে না। ট্রাফিক নিয়ম ভেঙে জরিমানা না মেটানো পর্যন্ত রদ করা হতে পারে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনও। অর্থাৎ সেই গাড়ি আর চালানোই যাবে না। এমনই কড়া সংশোধনী সহ সংসদে আসছে নতুন ‘মোটর ভেহিকেল সংশোধনী বিল।’
সূত্রের খবর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে যেদিন থেকে মিলছে, সেদিন নয়। যেদিন গাড়ি কেনা হচ্ছে, সেদিন থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বৈধ (ভ্যালিডিটি) হবে। এরকম ৬১টি সংশোধনীর নতুন আইন আনতে চায় মোদি সরকার। যদিও কেন্দ্রের নতুন উদ্যোগে সবই যে কড়াকড়ি, তা অবশ্য নয়। কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধাও মিলবে। যেমন, চল্লিশোর্ধ্বদের লাইসেন্স পেতে বা রিনিউ করতে মেডিকেল সার্টিফিকেট আবশ্যিক। নতুন আইনে বয়সের বিষয়টি বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হচ্ছে। পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে তিন হাজার কেজি ওজন বইতে গেলেই প্রয়োজন হয় পারমিট। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তা বাড়ানো হয়েছে। ভিন রাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত হাজার কেজি এবং রাজ্যের মধ্যেই এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাওয়ার ক্ষেত্রে ১২ হাজার কেজি পর্যন্ত কোনও পারমিট লাগবে না।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গাদকারি গত দু’বছর ধরে মোটর ভেহিকেল আইন বদলাতে চাইছেন। সেই মতো ২০২৪ সালের ৯ জুলাই এবং ৩০ সেপ্টেম্বর, দু’দফায় রাজ্যকে সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু কাজ এগোয়নি। তাই ফের গত বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নতুন খসড়া তৈরি করা হয়। ফের গত ২২ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত সংশোধনীর কপি রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে। চালকের গাফিলতি বা নিয়মের তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালানোর ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব শক্ত হাতে মোকাবিলা করতেই সংশোধনীতে জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে পথ দুর্ঘটনা কমানোই লক্ষ্য।
নতুন উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকার কয়েকটি বিষয় যুক্ত করতে চলেছে। যেমন, নিয়ম মেনে ভালো গাড়ি চালালে চালকের নামে জমা হবে পয়েন্ট। তারপর সময়মতো তাঁকে দেওয়া হবে পুরস্কার। পাশাপাশি, গাড়ির মালিকানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হোল্ডারদের নথিও আপডেট করবে কেন্দ্রই। এই ব্যবস্থা বর্তমান মোটর ভেহিকেল আইনে নেই। নতুন করে তা যুক্ত করা হচ্ছে। কেন এই উদ্যোগ? মন্ত্রক সূত্রে খবর, চালকের উপর নজরদারি বাড়িয়ে কেন্দ্রীয়স্তরে রেকর্ড রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।