ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: একদিকে জিআই স্বীকৃতি। অন্যদিকে পর্যটনের বাড়বাড়ন্ত। দু’ইয়ের প্রভাবে কাশ্মীরি পণ্যের বিক্রিতে জোয়ার এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়েছে কাশ্মীরি পণ্যের দোকানের সংখ্যাও। একসময় নকল পণ্যের দাপটে বাজারে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, এখন তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠছেন কাশ্মীরি শিল্পীরা। গোয়ার সমুদ্রসৈকত থেকে কেরলের ঐতিহ্যবাহী শহর এবং হায়দরাবাদের ব্যস্ত বাজার—সব জায়গাতেই পশমিনা শাল, কাগজের তৈরি সামগ্রী, আখরোট কাঠের খোদাই করা আসল কাশ্মীরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।
দক্ষিণ গোয়ার আগোন্ডা সৈকতে এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। মাত্র চার বছর আগে সেখানে কাশ্মীরি হস্তশিল্পের দোকান ছিল পাঁচটিরও কম। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৫-এর বেশি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজাফ্ফর ভাট জানান, ‘আগে নকল পণ্যের কারণে কাশ্মীরি হস্তশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর ক্রেতাদের আস্থা ফিরেছে।’ গত কয়েক বছরে দোকানের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়ে গোয়া এখন কাশ্মীরি হস্তশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে। একই ছবি দেখা যাচ্ছে কেরলেও। ফোর্ট কোচি, মাটানচেরি, মুন্নার ও এরনাকুলামের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কাশ্মীরি হস্তশিল্পের দোকান গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুবাশির আহমেদ দারের কথায়, ‘জিআই ট্যাগের ফলে ব্যবসার পাশাপাশি সুনামও বেড়েছে। ক্রেতারা এখন পণ্যের সার্টিফিকেশন দেখতে চান। কোথায় তৈরি হয়েছে সেইসব বিষয়ে জানতে চান।’ এছাড়া, বিভিন্ন মেট্রো শহর ও পর্যটনকেন্দ্রে আয়োজিত প্রদর্শনীগুলিও ক্রেতাদের আসল ও নকল পণ্যের পার্থক্য বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। হায়দরাবাদের মতো শহর মূলত ভিন্ন স্বাদের খাবারের জন্য বিখ্যাত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কাশ্মীরি হস্তশিল্পের দোকান বেড়েছে সেখানেও। এখানকার এক ব্যবসায়ী জান মহম্মদ খানের মতে, ‘পশমিনার পাশাপাশি কাশ্মীরি জাফরানেরও চাহিদা রয়েছে।’ মোটের উপর উপত্যকার ঐতিহ্য আবারও নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। কাশ্মীরের হস্তশিল্প দেশের গণ্ডি টপকে বিদেশিদের মনেও জায়গা করে নিচ্ছে। আগামীতে এই ধারা বজায় থাকলে কাশ্মীরি হস্তশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চিন্তা থাকবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।