নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইডি’র অন্দরে ‘অনৈতিক’ কাজের অভিযোগে সরগরম দিল্লির ‘প্রবর্তন ভবন।’ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)র সদর দপ্তরে কর্মরত উচ্চ পদাধিকারীদের একাংশের বিরুদ্ধেই সরব আইনি উপদেষ্টা। সরকারেরই নিয়োগ করা আইনি উপদেষ্টা সোনালি গোপলরাও বাডে সুরাহা চেয়ে সরাসরি চিঠি দিয়েছেন দিল্লির পুলিস কমিশনারকে। তুঘলক রোড থানায় জমা পড়েছে অভিযোগও। সংস্থার ডিরেক্টর পর্যায়ের পদাধিকারীর পাশাপাশি ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ইডির নয়াদিল্লি অফিসে কর্মরত ডেপুটি লিগ্যাল অ্যাডভাইসার সোনালি বাডে। সাড়ে ছ’ বছর কলকাতাতেও ইডি অফিসে কর্মরত ছিলেন তিনি।
হাইকোর্ট হোক বা সুপ্রিম কোর্ট, ইডির বিভিন্ন মামলায় কীভাবে অর্থমন্ত্রকের এই তদন্তকারী এজেন্সি জিততে পারে, কীভাবে এগোতে পারে মামলা, তার সঠিক পরামর্শ দেওয়াই হল সোনালিদেবীর কাজ। কিন্তু ইডির অফিসে সেই কাজের উপযুক্ত পরিবেশই নেই বলেই অভিযোগ তাঁর। দিল্লির পুলিস কমিশনারকে লেখা ছ’ পাতার চিঠিতে তাঁর অভিযোগ, তাঁকে সঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না। উলটে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁকে বিপদে ফেলতে তৈরি করা হয়েছে ভুয়ো নথি। দপ্তরে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। অহেতুক তাঁর উপর গোয়েন্দাগিরি (কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন ইত্যাদি) চলছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ইডি দপ্তরের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজকর্মের অভিযোগ করে সুরাহা চেয়েছেন সোনালিদেবী। দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এমনকি কেন্দ্রীয় রাজস্ব সচিবকে বিষয়গুলি জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বলেই অভিযোগকারিণীর দাবি। ২০২৪ সালের ২৫ মে প্রথমবার তিনি সরব হয়ে অভিযোগ করেছিলেন। দিয়েছিলেন চিঠিও। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোনও সুরাহা হয়নি। উলটে জীবন সংশয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে এবার দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে গত ১৯ ডিসেম্বর চিঠি দিয়েছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তদন্তের গতিবিধি, আচরণ ইত্যাদি নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অনেক সময়ই আদালতের ভৎর্সনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু এভাবে এজেন্সির অন্দরেই ইডির পদস্থ কর্মীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অনৈতিক কাজের অভিযোগ করে পুলিসের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।