শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: নিউ টাউনে স্করপিয়ো গাড়ি থেকে ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে জেরা করল বেঙ্গল এসটিএফ। এই টাকা যে তাঁরই, প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের কাছে তা মেনেও নিয়েছেন তিনি। তবে কার কাছে এই টাকা পাঠানো হচ্ছিল, এই প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। এই নিয়েই রহস্য তৈরি হয়েছে। বড়ো কিছু বেরিয়ে আসার আশঙ্কাতেই কি তিনি গোটা বিষয়টি গোপন করতে চাইছেন? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। সেই কারণেই আবার নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা।
নির্বাচনের আগে ভিন রাজ্য থেকে হাওলার মাধ্যমে আসা কালো টাকা ধরতে সক্রিয় রাজ্য পুলিশ। নভেম্বর মাসে নিউটাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড়ে সন্দেহজনক একটি স্করপিয়ো আটক করেন বেঙ্গল এসটিএফ অফিসাররা। তাতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় পাঁচ কোটি টাকা। গ্রেপ্তার করা হয় সিউড়ির বাসিন্দা আক্রাম খান ও ইমরান খান নামে দুই ব্যক্তিকে। তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ জাগে, সিউড়ি থেকে টাকা কলকাতায় আসছে কেন? আর এই টাকা পাঠাচ্ছেন কে?
তদন্তে উঠে আসে, বীরভূমে প্রচুর অবৈধ পাথর, বালি খাদান চলছে। এই সিন্ডিকেটের এক বড়ো মাথা তার দুই শাগরেদের মাধ্যমে কলকাতায় টাকা পাঠাচ্ছিল। এই টাকা টুলু মণ্ডলের বলে জানান ধৃতরা। তাঁর নাম উঠে আসায় জেরার জন্য এসটিএফের নোটিস যায় তাঁর কাছে। প্রথমে তিনি নোটিসে সাড়া দেননি। উলটে রাজ্যই ছেড়ে যান তিনি। তখন তাঁর খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। কয়েকদিন আগেই টুলু মণ্ডল আবার সিউড়িতে ফেরেন। ফের নোটিস যায় তাঁর কাছে। মঙ্গলবার তিনি এসটিএফ অফিসে হাজিরা দেন।
টুলু মণ্ডলের আনা নথি ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একাধিক বৈধ ব্যবসা রয়েছে তাঁর। সেসবে বার্ষিক টার্নওভার বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার। উদ্ধার হওয়া পাঁচ কোটি টাকা তাঁরই বলে তিনি তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেন। এই বিপুল পরিমাণ নগদ প্রাপ্তির সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিও জমা দেন তিনি। সেখানে টুলুবাবু জানিয়েছেন, ব্যবসার লভ্যাংশ থেকেই এই টাকা এসেছিল।
কিন্তু নগদ কীভাবে এল? তাঁর ব্যাখ্যা, খাদান ব্যবসায় দৈনিক পেমেন্ট চলে নগদেই। তাই কাঁচা টাকা থাকাই স্বাভাবিক। ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে তিনি গাড়িতেই নগদ অর্থ পাঠান। এর চেয়ে বেশি টাকাও অনেকসময় যায়। এমনকি, তিনি নিজেও টাকা নিয়ে গিয়েছেন কখনও। যদিও তদন্তকারীরা তাঁর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। এই টাকা যে অবৈধভাবে আসা সেই বিষেয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত তাঁরা। টুলু মণ্ডল এই টাকা কোথায় রাখতেন বা কার কাছে পাঠাতেন এই প্রশ্ন করতেই চুপ করে যান ওই ব্যবসায়ী। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এমন কারও কাছে এই টাকা যেত, যাঁর নাম প্রকাশ্যে এলেই শোরগোল পড়ে যাবে! সেই কারণে বিষয়টি গোপন করছেন ওই ব্যবসায়ী। সেই তথ্য উদ্ধারে অফিসাররা এখন মোবাইলের কল লিস্টের ভরসায়।