নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপথ্যে কি সত্যিই কয়লা কেলেঙ্কারির মতো অপরাধ? নাকি স্রেফ রাজনীতি? ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকে ইডির রেইড সংক্রান্ত ঘটনাক্রম সেই প্রশ্ন উসকে দিচ্ছে। সবার আগে ধন্দ, ইডি কেন শেক্সপিয়র সরণি থানায় ই-মেল করল? সেক্টর ফাইভে রেইডের জন্য ইলেক্ট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় তো তারা কিছু জানায়নি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতিসক্রিয়তা’র প্রভাব যে পড়েছিল, তাতে সংশয় নেই। কারণ জানা যাচ্ছে, শেক্সপিয়র সরণি থানায় ১১টা ১৫ মিনিটে অভিযোগ জানিয়ে মেল করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তারপরই তড়িঘড়ি পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। সেই খবর কোনওভাবে আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন তাঁরা দ্রুত থানায় ‘ইন্টিমেশন মেল’ করেন। তখন ১১টা ২৮ মিনিট। তৃণমূলের দবি, ইডি আশঙ্কা করেছিল, তাদের আসল উদ্দেশ্য ফাঁস হয়ে যাবে। তাই এই তৎপরতা।
তবে ডালে যে সত্যিই কিছু ‘কালা’ রয়েছে, তার ইঙ্গিত ইডি আধিকারিকদের কর্মকাণ্ডেই রয়েছে। সূত্রের খবর, সেদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ইডি আধিকারিকরা লাউডন স্ট্রিট পৌঁছে সবার আগে আবাসনের সিকিওরিটিদের ফোন কেড়ে নেন এবং ল্যান্ড লাইন ডিসকানেক্ট করে দেন। রক্ষীদের আবাসনের বাইরে বেরও করে দেন। আইডি কার্ড দেখতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তার বদলে চরম দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। তারপর প্রতীক জৈনের ঘরের বেল বাজান ইডি অফিসাররা। দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়েন তাঁরা। প্রথমেই প্রতীক ও তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর জোর করে একের পর এক ঘরে ঢুকে তাঁরা সব লণ্ডভণ্ড করে দেন। এই পুরো ঘটনাক্রম যদি ইডির ‘নিয়ম’ মেনে হয়ে থাকত, তাহলে কি কোনও পরিস্থিতিতেই আধিকারিকরা নার্ভ ফেল করতেন? রাজ্য পুলিশের একটি সূত্র দাবি করছে, কোথাও কোনও গলদ রয়ে গিয়েছে এবং পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা লাউডন স্ট্রিটের উদ্দেশে রওনা দেওয়াতেই তা বুঝে গিয়েছিল ইডি। তাই অতি তৎপরতার সঙ্গে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মেল করেন আধিকারিকরা।