সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কপিলমুনির মন্দিরের পাশে সারি দিয়ে সাধু সন্ন্যাসীদের থাকার ঘর। গঙ্গাসাগর মেলার প্রাক্কালে অনেকেই এখানে এসে আস্তানা গেড়েছেন। সকাল থেকেই লেগে রয়েছে ভক্তদের আনাগোনা। কেউ এরাজ্যের, কেউবা এসেছেন ভিন রাজ্য থেকে। রবিবার সাতসকালে দেখা গেল, সাধুদের এক গুমটি ঘরের বাইরে বেশ কিছু ভক্ত ভিড় জমিয়েছেন। ক্রমে তা লাইনের আকার নিল। কৌতূহলবশত উঁকি দিতেই চোখে পড়ল, এক সাধুবাবা ভক্তদের হাতে কী যেন তুলে দিচ্ছেন! তাঁর সামনে একটি বড়ো ঝুড়ি। তাতে ভরতি পকোড়া। যে সব পুণ্যার্থী আসছেন আশীর্বাদ নিতে, তাঁদের ওই ঝুড়ি থেকে প্রসাদ হিসেবে পকোড়া দিচ্ছেন সাধুবাবা। এবার গঙ্গাসাগর মেলায় এখনও পর্যন্ত এই সাধুই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পরনে গেরুয়া বসন, মাথায় গেরুয়া ফেট্টি, গায়ে জওহর কোট। তিনি নিজেকে ‘পকোড়া বাবা’ বলে দাবি করলেও তাঁর আসল নাম পুলিন ঠাকুর। এসেছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে।
বাবা আবার স্বাস্থ্য সচেতন। অন্যান্য সাধু-সন্নাসীদের কাছে গেলে তাঁরা ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে হয় বাতাসা, না হয় নকুলদানা কিংবা মিছরি দেন। মিষ্টি খেলে সুগার বাড়তে পারে, তাই এসবের ধারে পাশে যান না পকোড়া বাবা। তাঁর কথায়, আগে শরীর, তারপর সব। রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে কী লাভ! তাই আমি নোনতা প্রসাদে বিশ্বাসী। নিরামিষ পকোড়া। সবাই এই ‘পরসাদি’ উপভোগ করবেন। ভক্তরা অনেকেই বলাবলি করছেন, এমন সাধুবাবা আগে কখনও দেখিনি। তবে ঠান্ডার মধ্যে গরম পকোড়া মন্দ লাগছে না। প্রসাদ হিসেবে যে চপ, পকোড়াও আচমকা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, ভাবেননি কেউ।
যেখানে ধর্মীয় মেলা বসে, সেখানেই চলে যান তিনি। গত পনেরো বছর ধরে দেশের বিভিন্ন ধর্মস্থান ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে গঙ্গাসাগরে এই প্রথম এসেছেন ‘পকোড়া বাবা’। এদিন সাধুবাবা যেখানে বসে প্রসাদ বিলি করছিলেন, ঠিক তাঁর পিছনেই বসে নাগাড়ে পকোড়া ভাজচ্ছিলেন তাঁর কয়েকজন সঙ্গী। তাঁরাও এসেছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে। একটু বেলা বাড়তেই সাধুদের ডেরায় দেখা গেল না বাবাকে। দেখা মিলল মেলা প্রাঙ্গণের আরেক প্রান্তে। তাঁকে ঘিরে বড়সড় জটলা। সেখানে বসেও পকোড়া বিলি করে চলেছেন তিনি। কোনও ভক্তই খালি হাতে ফিরছেন না। হাত পাতলেই মিলছে গরমা-গরম পকোড়া।