নির্বাচনের মুখে দিলীপ আর বিরোধী দলনেতার সংঘাত, উদ্বিগ্ন বিজেপি
বর্তমান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট থেকে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বৈরথ চরমে উঠেছিল। তার রেশ এখনও চলছে। দিলীপ ঘোষ বারবার তাঁর লোকসভা কেন্দ্র বদল কিংবা পরাজয় প্রসঙ্গে অন্যদল থেকে আসা কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই বিষোদ্গার করেছেন। তা মেটাতে এবার আসরে স্বয়ং শাহ-নাড্ডা। ৩০ ডিসেম্বর অমিত শাহের ডাকা বৈঠকে আচমকাই ডাক পান দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন এমপি বঙ্গ বিজেপির মূল স্রোতে ফিরেছেন। এবার পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা ঘরোয়া বৈঠকে দিলীপকে পাশে বসিয়ে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব মেটানোর বার্তা দিলেন। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বঙ্গ বিজেপিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিউটাউন হোটেলে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা। আশ্চর্যের হলেও সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর ছিলেন দলের নয়া রাজ্য কমিটির বাছাই করা কিছু নেতা। নাড্ডার স্পষ্ট কথা, ‘এক হয়ে চলুন। আপনারা এক হলে নিচুতলার কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ হবেন।’ দিলীপ ঘোষ ও বিরোধী দলনেতার দিকে তাকিয়ে পার্টির প্রধান বলেন, ‘দল যেমন চাইবে আপনাদেরও তা অক্ষরে অক্ষরে তা মেনে চলতে হবে।’ বাংলার নির্বাচনকে, দেশের একটি সাধারণ অঙ্গরাজ্যের ভোট হিসেবে দেখা চলবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন নাড্ডা। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘দেশের নিরাপত্তার জন্য বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন জরুরি। তাই সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নয়। তা বরদাস্ত করাও হবে না।’
এই বৈঠকের আগে বিজেপির বিভিন্ন জেলা সভাপতি এবং সব জেলার দায়িত্বে আসা ভিন্ন রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নাড্ডা। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গাড়ি চালাবেন এরাজ্যের নেতারাই। ভিন রাজ্যের নেতাদের ভূমিকা হবে ‘সহায়ক ইঞ্জিনের’ মতো। এর মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। কোথাও কোনওভাবে বাংলার আবেগে আঘাত করা যাবে না। মূল কাজ করবেন এরাজ্যের নেতৃত্ব। আপনারা কেবল অনুঘটকের ভূমিকায়। শুধু ভাষণ দিলে চলবে না, কাজ করুন।’