• ‘বিশেষ’ কোন নথির সন্ধানে হানা ইডির? মেসেজ ফাঁস! রাতেই প্ল্যানিং সিজিও কমপ্লেক্সে
    বর্তমান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়লা কেলেঙ্কারি যে স্রেফ মোড়ক, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এর নেপথ্যে কি ‘বৃহত্তর’ কোনও ষড়যন্ত্রও রয়েছে? একটি মেসেজ বার্তায় সেই প্রশ্নই তুলে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দল দাবি করেছে, কেন্দ্রের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তর থেকে পাঠানো মেসেজটি আইপ্যাকে ইডি হানার দু’দিন আগের। অর্থাৎ, ৬ জানুয়ারির। কোনও এক ‘দাদা’কে উদ্দেশ করে তাতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, ইডির ১৩ জন আধিকারিক কলকাতায় আসছেন। ফ্লাইট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। শুধু তাই নয়, সাইবার বিশেষজ্ঞ গুলশন রাই তাঁদের সঙ্গে আসছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সেক্রেটারির নির্দেশে ৭ জানুয়ারি রাতে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে মেসেছে। নজর করার মতো বিষয় হল, এই বার্তায় ‘দাদা’ বলে সম্বোধনটি। যদি মেসেজটি কোনও আমলা বা মন্ত্রীকে পাঠানো হত, তাহলে স্যার বলে উল্লেখ থাকত। তৃণমূলের সাফ কথা, ‘দাদা’ হিসাবে সম্বোধনের অর্থ, বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতাকেই পাঠানো হয়েছে এসএমএস। তা এসে গিয়েছে তৃণমূলের হাতে। দুয়ে দুয়ে চার সেখানেই। 

    প্রথম প্রশ্ন, ইডি ঠিক কী খুঁজতে গিয়েছিল? কয়লা কেলেঙ্কারিতে হাওলার মাধ্যমে লেনদেনের যে অভিযোগ কেন্দ্রীয় এজেন্সি করেছে, তা মারাত্মক গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না রাজনীতির দরবারে। কারণ, এই ‘মানি ট্রেইল’ ২০২২ সালে তারা পেয়েছিল বলে খবর। তাহলে তখনই আইপ্যাকে ইডি হানা দিল না কেন? তিন-সাড়ে তিন বছর নিশ্চয়ই কেউ হাওলার লিঙ্ক বা সেই সংক্রান্ত তথ্য ইডির জন্য সাজিয়ে রাখবে না। দ্রুত সেই প্রমাণ নষ্ট করে দেবে। সেটা তদন্তকারী আধিকারিকরাও জানেন। তাহলে ঠিক কী খুঁজতে এসেছিল ইডি?

    দ্বিতীয় প্রশ্ন, সাইবার ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ সঙ্গে কেন? ইডির একটি সূত্রই কিন্তু বলছে, ‘নেটওয়ার্কিং’ সংক্রান্ত কাজ ছিল। আইপ্যাকের সার্ভারের নিরাপত্তা বলয় ভাঙাটা সাধারণ ডিটিপি অপারেটরের কাজ নয়। যদিও ‘নেটওয়ার্কিং’ নিয়ে নাড়াচাড়া করে তৃণমূলের এসআইআর সংক্রান্ত কাজকর্মের হদিশ পাওয়া যেতে পারে। সেটা হয়তো ইডি পেয়েওছে। খুব বেশি হলে আসন্ন ভোটে প্রার্থী বিষয়ক তথ্য। সেটাই কি যথেষ্ট? তার জন্যই এত তোড়জোড়, গোপন বৈঠক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উড়িয়ে আনা? তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দিষ্ট কোনও ‘দুর্বলতা’র সন্ধানেই কি তাহলে এই রেইড? তাহলে সেটা কী? আর তার খবরই বা কে দিল? লাউডন স্ট্রিটের প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ‘বিশেষ’ কিছু খুঁজছিলেন তাঁরা। হয়তো কোনও ডিভাইস। বা কিছুর ‘পাসওয়ার্ড’। এমনকি সেক্টর ফাইভের দপ্তরেও সব ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞকে দিয়ে খোলানো হয়েছিল। তাতে ‘নির্দিষ্ট’ কিছু পাওয়া গিয়েছে কি? 

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য বলছেন, ‘তৃণমূলের কাছে কোনও সূত্র বা তথ্য এসে থাকলে, তা নিয়ে বাজার গরম না করে সুপ্রিম কোর্টে যাক। একজন বহিরাগত প্রতীক জৈন এবং তাঁর সংস্থাকে বাঁচাতে গোটা তৃণমূল ঝাঁপিয়ে পড়ল! কোনও দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা নয় তো?’
  • Link to this news (বর্তমান)