• বধূকে রাস্তায় মারধর, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেগঙ্গায়
    বর্তমান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বামীর পরকীয়ার খবর জেনে যাওয়ায় চলছিল পারিবারিক অশান্তি। তার জেরেই এক বধূকে রাস্তায় একাকি পেয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে সরাসরি অভিযোগের তির দেগঙ্গার চাঁপাতলা পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধানের ভাই মাসুম রেজা চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আক্রান্ত বধূ সাবিনা খাতুনকে চিকিৎসার জন্য বারাসত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এখনও অধরা থাকায় রবিবার শ্বশুরবাড়ির মূল গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। পরে দেগঙ্গা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

    জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার খেজুরডাঙার বাসিন্দা সেখ সাজিবরের সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সাবিনার। অভিযোগ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে তাঁর স্বামী অন্যত্র এক মহিলার সঙ্গে থাকেন। বধূ থাকছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। এনিয়ে অশান্তি লেগেছিল। শনিবার অশান্তি চরমে পৌঁছলে বধূ সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। আর শনিবারই রাস্তায় ঘটে হামলার ঘটনা। বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালের কাছে বধূকে তাঁর ননদাই চাঁপাতলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হুমায়ুন রেজা চৌধুরীর ভাই মাসুম রেজা চৌধুরী রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। গৃহবধূর বাবা লুৎফার মণ্ডল বলেন, জামাই পানশালার এক যুবতীর সঙ্গে থাকছে। মেয়েকে কোনও খরচ দিত না। তবু মেয়ে অত্যাচার সহ্য করে নাতিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকছিল। শনিবার মেয়েকে মারধর করলে বেরিয়ে আসে। আর রাস্তাতে মেয়েকে মারধর করেছে ননদ ও ননদাই।

    আক্রান্ত সাবিনা বলেন, স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে বাড়িতে অশান্তি চলছিল। শনিবার আমি যখন থানায় অভিযোগ করতে আসছিলাম, তখন ননদাই টোটো আটকে আমাকে টেনে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে লাথি মেরেছে। ননদ ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসে আমাকে বাঁচান। এদিকে দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক মাসুম ও তাঁর স্ত্রী। এনিয়ে তৃণমূলের দেগঙ্গা ব্লক ২ সভাপতি সুব্রত বসু বলেন, আইন আইনের পথে চলবে। দোষীদের সাজা হবে। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)