• দিল্লিতে মমতার নির্বাচন কমিশন অভিযান নিয়ে বাড়ছে কেন্দ্রের অস্বস্তি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আচমকায় আইপ্যাকের দপ্তরে অভিযান চালানোর সময় মমতা কড়া প্রতিবাদ জানান। ওইদিন তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। এরপর শুক্রবার তিনি যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিল চলাকালীন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কল্যাণ, আমাদের নেক্সট ডেস্টিনেশন হল নির্বাচন কমিশনের অফিস। চলো লড়াই হবে। কলকাতা থেকে দিল্লি।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি লিখে এসআইআর (নিবিড় সংশোধনী) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এসআইআর আতঙ্কের কারণে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে, যা আমাকে স্তম্ভিত এবং বিরক্ত করেছে।’

    সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তারা মমতার দিল্লি সফরের সময়সূচি, সহকর্মী ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহে তৎপর। সম্প্রতি দিল্লিতে ইডির আচমকায অভিযান এবং তৃণমূল সাংসদদের ধর্না পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক করেছে।

    তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও প্রকাশ্যে মমতার দিল্লি অভিযানের সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তৃণমূলের এক রাজ্য স্তরের নেতা জানিয়েছেন, দিদি যখন প্রকাশ্যেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাওয়ার কথা বলেছেন। তখন নিশ্চয়ই তাঁর মাথায় কিছু রয়েছে। তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করলেই শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কেন গোটা দুনিয়া জানতে পারবে। শুধু তাই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরের ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিতে বলেছেন, ‘ভ্যানিশ কুমার তৈরি থাকুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন।’ অভিষেকের এই মন্তব্যের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সেজন্য তৃণমূলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণে রাখছে শাহের দপ্তর।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীকের বাড়িতে ইডির হানার প্রতিবাদে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। এই ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন্দ্র। কারণ শুক্রবার সকালে তৃণমূলের আট জন সাংসদ শাহের অফিসের বাইরে ধর্নায় বসার বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তাদের কাছে একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল। আচমকা এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ায়, বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষকর্তারা।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)