• শারীরিক বাধা পেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ওরা
    এই সময় | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: জন্ম থেকেই ত্রুটিপূর্ণ পা- ক্লাবফুট। স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটাচলায় সমস্যা ছিল। কারণ পায়ের পাতাটাই ছিল ভিতর দিকে কিংবা নীচের দিকে বাঁকা। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহযোগিতায় তারা পেয়েছে নতুন জীবন। সমাজের বাকিদের কাছে যারা ছিল বিশেষ ভাবে সক্ষম, সেই শিশুরাই রবিবার সকলকে চমকে দিল। কিডস অর্থোপেডিক ক্লিনিক আয়োজিত 'ক্লাবফুট চ্যাম্পিয়ন্স ডে'-তে দৌড়ে স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার আত্মবিশ্বাস পেল ১২০ জন শিশু। প্রতিযোগিতার ফিনিশিং লাইন তাদের জন্য হয়ে রইল এগিয়ে চলার প্রতীক।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগেরই পা বাঁকা ছিল। শারীরিক এই ত্রুটির জন্য ঠিকমতো হাঁটাচলায় সমস্যা হতো। ফলে অনেকেই 'প্রতিবন্ধী' তকমা সাঁটিয়ে দেন। এতে সন্তানকে নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অভিভাবকদের। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ এ বিষয়ে সচেতনতা নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৌলতে এখন স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাচ্ছে অনেক শিশুই। সঠিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার তাদের এগিয়ে চলার পথ মসৃণ করছে।

    এ বিষয়ে পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক এবং ক্রিটিক্যাল কারেকটিভ সার্জারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৌম পাইক জানিয়েছেন, সঠিক চিকিৎসায় এই সব শিশুর এই সমস্যা নির্মূল হতে পারে। এই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই অস্ত্রোপচার, ব্রেস, নিয়মিত ফলোআপ ও রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে আজ ওই শিশুরা দাঁড়াতে শিখেছে নিজের পায়ে। আয়োজকরা বলছেন, আজ ওদের বিজয় দিবস। এই শিশুদের জন্মগত ত্রুটি দেখে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তারা কতটা পথ এগিয়ে এসেছে, সেটা নিজেরাই আজ প্রমাণ করল।

    এক সময়ে যাদের কোলে নিয়ে চলতে হতো, আজ সেই শিশুরাই মাঠে ছুটছে- দেখে আবেগে ভাসছেন বহু অভিভাবক। আয়োজকদের কথায়, 'এটা একটা বার্তা- ক্লাবফুট সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য। দরকার সচেতনতা আর সময় মতো উদ্যোগ।

  • Link to this news (এই সময়)