এই সময়, রায়গঞ্জ: সুপারভাইজ়ারের (বা গাইড) অভাবে রেজিস্ট্রেশন না-হওয়ায় পিএইচডিতে ভর্তি হয়েও ছ'বছর ধরে কোর্স শেষ করতে পারেননি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের গবেষক আবদুল মুস্তাক আলম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারংবার আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। দীর্ঘদিন মামলা চলার পরে অবশেষে গত ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মামলার রায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ওই গবেষকের জন্য সুপারভাইজ়ার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের সুরুন-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডামডোলিয়া এলাকার বাসিন্দা মুস্তাক ২০১৮-র ১১ ডিসেম্বর রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিভাগে পিএইচডি-তে ভর্তি হন। ২০১৯-এর জুলাইতে তাঁর কোর্স ওয়ার্ক সম্পূর্ণ হয়। মুস্তাকের অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি সুপারভাইজ়ার পাননি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, সংস্কৃত বিভাগ থেকেই তাঁকে গাইড দেওয়ার কথা। সেই সময়ে তিনি একাধিকবার গাইড চেয়ে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং ডিনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ মুস্তাকের।
ছ'বছরের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে দেখে শেষমেশ বাধ্য হয়ে ২০২৪-এর ১৭ ডিসেম্বর তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। একাধিক শুনানির পরে অবশেষে চলতি বছর ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি ঋতব্রত মিত্র মামলার রায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সুপারভাইজ়ার নিয়োগ করে মুস্তাকের কোর্স কমপ্লিট করতে সাহায্য করার নির্দেশ দেন।
গবেষকের কথায়, 'ভর্তির পরে আমার কোর্স ওয়ার্ক কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিল। শুধু গাইডের অভাবে আমি পিএইচডি করতে পারছিলাম না। অনেকবার মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানিয়েছিলাম। কোনও সুরাহা হয়নি।' এরপরে তাঁর হয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন আইনজীবী আরিফা সুলতানা। শেষমেশ বিচারপতি তাঁদের পক্ষেই রায় দেওয়ায় কিছুটা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন মুস্তাক। বলছেন, 'আমি শুধু সুষ্ঠ ভাবে পিএইচডি শেষ করতে চাই।' বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করবেন বলেই আশাবাদী এই গবেষক।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপককুমার রায়ের বক্তব্য, 'হাইকোর্টের রায় আমরা পেয়েছি। আগামী ১৯ জানুয়ারি এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকরাও থাকবেন। আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।'