• চা-শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড়, ফের চিঠি শুভেন্দুরও
    আনন্দবাজার | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চালুর পরে নানা অভিযোগে পাঁচ বার জাতীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও পর্যন্ত একটিরও জবাব দেয়নি কমিশন। তবে কার্যত প্রতি বারই মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির পরেই সিইসি-কে পাল্টা চিঠি লিখে তাঁর যাবতীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চিঠিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উল্লেখ করে এই বারেও তার ব্যতিক্রম হল না। তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা বলেছে, বিরোধী নেতা কি কমিশনের জনসংযোগ আধিকারিক! এরই মধ্যে হামিমুল ইসলাম (৪৭) নামে মুর্শিদাবাদের এক বুথ লেভল অফিসারের (বিএলও) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এসআইআর-‘চাপে’র অভিযোগ উঠেছে।

    অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নথিকে এসআইআর-এ প্রামাণ্য নথি হিসাবে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। একে স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘উত্তরবঙ্গের উপেক্ষিত কণ্ঠস্বরের দুর্ধর্ষ জয়!’ প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় বিধায়কদের নিয়ে চা-শ্রমিকদের জন্য এই দাবি তুলে কমিশনে দরবার করেছিলেন বিরোধী নেতাই।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, এসআইআর-এর জন্য ৭৭ জনের মৃত্যু-সহ নানা অভিযোগ তুলে সিইসি-কে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার প্রতিটি অভিযোগের কার্যত ‘জবাব’ হিসাবে পাল্টা চিঠি লিখেছেন শুভেন্দুও। বিরোধী নেতা রবিবার বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন দাবি এসআইআর-কে ভেস্তে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা।” তাঁর সংযোজন, “এসআইআর-এর ফলে ভুয়ো, অনুপ্রবেশকারী, এক ভোটারের নাম একাধিক বার থাকার মতো বিষয় সামনে আসছে। এগুলি তৃণমূলের আমলেই প্রশ্রয় পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে নির্বাচনী-সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেই এখন উনি কাঁদুনি গাইছেন।” এসআইআর-আতঙ্কে মৃত্যু প্রসঙ্গে শুভেন্দু চিঠিতে বলেছেন, ‘উনি যে সংখ্যার কথা বলেছেন, তা মনগড়া ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’ পাশাপাশি, অমর্ত্য সেন-সহ বিশিষ্টদের শুনানি নিয়ে মমতা ধারাবাহিক ভাবে যে অভিযোগ তুলেছেন, সেই প্রসঙ্গে বিরোধী নেতার বক্তব্য, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কারণে শুনানির নোটিস পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। সমাজের বিশিষ্টরাও ব্যতিক্রম নন। এটা আইনের বিষয়।’ এরই মধ্যে শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদের রানিতলায় পেশায় স্থানীয় স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষক, বিএলও হামিমুলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বন্ধ ক্লাসঘর থেকে। পুলিশ জানায়, দেহ উদ্ধারের সময়ে শিক্ষকের মুখ রুমালে বাঁধা ছিল। তাঁর স্ত্রী শীলা বলেছেন, “অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও স্বামীর উপরে বিএলও-র অতিরিক্ত কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ধার নেওয়া টাকা ফেরতের জন্য চাপ আসছিল। প্রায়ই দুশ্চিন্তার কথা বলত। এই সব কারণেই হয়তো আত্মহত্যা।” তবে এই ঘটনা আত্মহত্যা না খুন, তা পুলিশ তদন্ত করুক বলে দাবি তুলেছেন হামিমুলের দাদা ফরমানুল। ভগবানগোলার স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকারের অবশ্য দাবি, এসআইআর-চাপেই এই আত্মহত্যা। এসডিপিও (ভগবানগোলা) বিমান হালদারের বক্তব্য, “প্রাথমিক অনুমান, ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।” যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক জানিয়ে বিজেপির অবশ্য বক্তব্য, সব মৃত্যুকেই রাজনৈতিক স্বার্থে এসআইআর-এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে তৃণমূল।

    শুভেন্দুর পাল্টা চিঠিকে নিশানা করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী কমিশনকে চিঠি লিখছেন। জবাব দেওয়ার মুখ নেই বলে কমিশন উত্তর দিচ্ছে না। আর শুভেন্দু কি কমিশনের জনসংযোগ আধিকারিক? তিনি বিরোধী নেতা। কমিশনের হয়ে ওকালতি করা ওঁর দায়িত্ব নয়। এসআইআর নিয়ে রাজ্যে যে হয়রানি, তাতে শুভেন্দু যত চিঠি দেবেন, তত জনবিচ্ছিন্ন হবেন।”

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে পথের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিজেপি ও কমিশন নাগরিকত্ব কাড়ার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তুলে এ দিন পূর্ব বর্ধমানের কালনার আগড়াদহ বাজারে অবরোধ করেছে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন। পাশাপাশি, শুনানির মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিযোগ তুলে পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবিতে এ দিন কলকাতার ভারতসভা হলে হয়েছে গণ-কনভেনশন। সেখানে এপিডিআর, ‘নো এনআরসি মুভমেন্ট’, ক্রম রূপান্তর, সিএসএ, আরএসএফ, মানবী-সহ প্রায় ২০টি সংগঠন যোগ দেয় এবং তারা এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের জন্য সমন্বয় মঞ্চ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)