ট্র্যাফিক আইন মানাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ক্যামেরা হাওড়ায়
আনন্দবাজার | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
হাওড়া শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হচ্ছে। এই প্রযুক্তির পোশাকি নাম ‘ইন্টিগ্রেটেড ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (আইটিএমএস)। কোনও গাড়ি ট্র্যাফিক সিগন্যাল ভাঙলে, বেপরোয়া গতিতে চললে কিংবা লেন ভাঙলে এই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই অপরাধ চিহ্নিত করবে। শুধু তা-ই নয়, কোনও বাইক বাস্কুটার-আরোহী হেলমেট না পরলে তাঁর ছবি তুলে ট্র্যাফিক দফতরে পাঠিয়েও দেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এই ক্যামেরা বসাচ্ছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।
হাওড়ার বাসিন্দাদের বড় অংশের অভিযোগ, শহরে ট্র্যাফিকব্যবস্থাপনা বলতে কার্যত কিছু নেই। বেআইনি পার্কিং তো আছেই, সেই সঙ্গে কাজিপাড়া মোড় থেকে মল্লিকফটক, সাঁতরাগাছি মোড় থেকে নিবড়া, বালি থেকে সালকিয়া চৌরাস্তা, বাঁকড়া থেকে কদমতলা— এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে সিগন্যালের কোনও রকম তোয়াক্কা না করে যানবাহন চলে। আরও অভিযোগ, ট্র্যাফিক পুলিশ থাকে দর্শকের ভূমিকায়।
হাওড়া সিটি পুলিশের মোট ট্র্যাফিক গার্ড রয়েছে আটটি। এর মধ্যে হাওড়া, গোলাবাড়ি, দাশনগর, বালি ট্র্যাফিক গার্ডে দিনভর ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। মূলত এই চারটি ট্র্যাফিক গার্ডের ব্যবস্থাপনার উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল শহরের যান নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি। পুলিশকর্তাদের মতে, প্রতিদিন হাওড়া শহরে যে ভাবে গাড়ির চাপ বাড়ছে, তাতে যান নিয়ন্ত্রণে পুরনো কৌশল আর কাজে আসছে না। আধুনিক সরঞ্জাম না থাকায় ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গকারী গাড়ির বিরুদ্ধেও বহুসময়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের একটি অংশ আরও বলছেন, হাওড়া শহরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ টোটোর দাপাদাপি। সেই সঙ্গে অটো, রিকশা, সাইকেল ভ্যান, ঠেলাগাড়ি-সহ ধীর গতির অন্য যানবাহন তো আছেই। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা একেই সরু। তার উপরে যেখানে সেখানে পার্কিং আর এই ধীর গতির যানবাহনের জন্য চলাফেরা করাই দায় হয়ে উঠেছে।
যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (ট্র্যাফিক) সুজাতাকুমারী বীণাপাণি বলেন, ‘‘হাওড়ার ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি-নির্ভর করতে পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে এআই-নির্ভর ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এর ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে, কমবে ট্র্যাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা।’’ তিনি জানান, হাওড়া শহরের কোন কোন মোড়ে ট্র্যাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা বেশি, কোথায় বেশি যানজট হচ্ছে, কোন মোড়ে সিগন্যালিং ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন— এমন নানা দিক নিয়ে রাজ্য পরিবহণ দফতরইতিমধ্যেই একটি সমীক্ষা-রিপোর্ট তৈরি করেছে। হাওড়া ট্র্যাফিক পুলিশও তাদের নিজস্ব সমীক্ষার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তারভিত্তিতে কোথায়, কত সংখ্যক অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসবে, তা ঠিক করবে পরিবহণ দফতর। সুজাতা বলেন, ‘‘হাওড়ার ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সামলাতে আধুনিক প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীল হওয়া জরুরি। সেই মতো পরিকল্পনা করেই কাজ এগোচ্ছে।’’