প্রতারণার জন্য অ্যাকাউন্ট ‘ভাড়া’, দিল্লি পুলিশের হাতে ধৃত এক
আনন্দবাজার | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সাইবার প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে শঙ্খশুভ্র সেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি সাইবার প্রতারণার মামলার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানার একটি দল শনিবার রাতে পর্ণশ্রী থানা এলাকার বাড়ি থেকে প্রথমে শঙ্খশুভ্রকে আটক করে। থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি মেলায় গ্রেফতার করা হয় শঙ্খশুভ্রকে। তবে পরে শর্তাধীন জামিন পান তিনি।
রবিবার অভিযুক্তকে আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে ট্রানজ়িট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আদালতে তদন্তকারী অফিসারের তরফে যথাযথ আইনি পদ্ধতিতে নথি পেশ করা যায়নি বলে অভিযুক্তের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। ২০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযুক্তকে হাজির হতে হবে। তাঁকে মামলার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’’ বিচারকের আরও পর্যবেক্ষণ, পরোয়ানা ছাড়াই শঙ্খশুভ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনও নোটিসও পাঠানো হয়নি। সেই কারণেই অভিযুক্তের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আদালত সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারণার টাকা ঢুকেছে শঙ্খশুভ্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্টটি তিনি প্রতারণার জন্য ভাড়া দিয়ে কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রের খবর, নিহত কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট বাপি সেনের ছেলে শঙ্খশুভ্র। ২০০২ সালে বর্ষবরণের রাতে ওয়েলিংটনে মোটরবাইক আরোহী এক তরুণীকে হেনস্থা থেকে বাঁচাতে গিয়ে মত্ত পুলিশকর্মীদের হাতেই খুন হতে হয়েছিল বাপিকে। কলকাতা পুলিশের রিজ়ার্ভ ফোর্সের কয়েক জন কর্মী তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর জখম বাপিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান বাপি।