সংবাদদাতা, তেহট্ট: অন্যবছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যবার এসময় কুইন্টাল পিছু সাড়ে পাঁছহাজার থেকে ছ’হাজার টাকা পাটের দাম মেলে। এবার সেই দাম বেড়ে ১২,২০০-১২,৫০০ টাকা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, এবার বাইরে থেকে কোনও পাট আসছে না। সেকারণেই পাটের দাম বেড়ে গিয়েছে।
নদীয়া জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট। বহু কৃষক পাটচাষ করে সংসার চালান। কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে চাষিরা পাটের দাম পাচ্ছিলেন না। ফলে তাঁদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল। চাষিরা জানান, দাম না পাওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাইরের, বিশেষত বাংলাদেশের পাট ভারতে আসা প্রথম কারণ। বাংলাদেশে এমনিতেই এই এলাকার তুলনায় উন্নতমানের পাট উৎপন্ন হয়। সেই পাটের দাম ভারতীয় টাকায় অনেক কম হওয়ায় মিল মালিকরা সেটাই কিনতেন। বাংলাদেশের পাট ৪৫০০-৫৫০০টাকা কুইন্টাল দাম পড়ত। সেই তুলনায় স্থানীয় পাটের দাম কিছুটা বেশি ছিল। এবার বাংলাদেশের পাট না আসায় স্থানীয় পাটের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার পাটজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করার প্রভাবও পড়েছে।
পাটচাষি বিক্রম বিশ্বাস বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি। তার কারণ, পাটের গুণগত মান বেড়েছে। বাইরের পাটও আসছে না। তাই এবার পাটের চাহিদা আছে। ভালো মানের পাটের কুইন্টাল প্রতি ৮৫০০টাকা অবধি দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাটের এমন দাম পেলে আমরা ভালো লাভ করতে পারি।
পাট ব্যবসায়ী তপন বাড়ৈ বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার স্থানীয় পাটের চাহিদা বেড়েছে। আর চাহিদা বাড়লে দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক। চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। পাট কেনাবেচাও বেশি হচ্ছে।