বছরের শুরুতেই বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল কমল হাজার কোটি ডলার
বর্তমান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারে ধস। এক বছরের মধ্যে তা সর্বনিম্ন। টাকার পতন এর অন্যতম কারণ তো বটেই, রপ্তানি হ্রাসও এর পিছনে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলি লগ্নি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাম্প্রতিককালের মধ্যে সর্বোচ্চ অঙ্কে পৌঁছেছিল বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল। হয়েছিল ৭০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহেও সেই তহবিল ছিল ৬৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে এক ধাক্কায় তা প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার কমে গিয়েছে। হয়েছে ৬৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের পর থেকে বিদেশি মুদ্রার তহবিল হ্রাসের প্রবণতা এই পর্যায়ে যায়নি। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই ধাক্কা। মুখে ভারত সরকার যতই বলুক যে, আমেরিকার শুল্ক ধাক্কায় রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ ক্ষতি হয়নি, পরিসংখ্যান থেকে কিন্তু স্পষ্ট, ৫০ শতাংশ শুল্ক বলবৎ হওয়ার আঁচ ভারতের উপর লেগেছে। একদিকে যেমন বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে ধস নেমেছে, তেমনই বিগত কয়েক বছর ধরে যা সবথেকে দ্রুত বেড়েছে, সেই মিউচুয়াল ফান্ডের তহবিলও উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। প্রথমত ফান্ডে অর্থ প্রবেশ অনেক কমে গিয়েছে। আর দ্বিতীয়ত তহবিল তুলে নিচ্ছে লগ্নিকারীরা। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছিল মিউচুয়াল ফান্ডের মোট তহবিল। এক বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সেটা কমে হয়েছে সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৫০ হাজার কোটি টাকা কমে গিয়েছে। একদিকে নতুন করে টাকা জমা করার প্রবণতা কমছে। আবার জমা টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলেও নেওয়া হচ্ছে। যদিও অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ড অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলেছে, একটাই স্বস্তির বার্তা। সেটি হল, এসআইপির প্রবণতা একইরকম রয়েছে। মধ্যবিত্ত এসআইপিতে এখনও বিশ্বাস রাখছে। কিন্তু বড়সড় অঙ্ক রাখছে না মিউচুয়াল ফান্ডে। আবার ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটেও সাড়া মিলছে।