আজকাল ওয়েবডেস্ক: চুরি করতে এসে কম্বল লুঠ করল চোরেরা। কনকনে এই ঠান্ডার রাতে শুধু সোনা-টাকা নয়, উষ্ণতার দিকেও নজর পড়েছে চোরের! পূর্ব বর্ধমান জেলার,গুসকরা পৌরসভা এলাকায় সন্ধ্যারাতে গৃহস্থের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। অবাক করার মতো বিষয়, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদের পাশাপাশি চোরেরা কম্বল পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গুসকরা পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়া সৎসঙ্গ মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। পোস্ট অফিসের কর্মী রাণা বিশ্বাসের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাণা বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী কয়েকদিন আগে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। শনিবার বিকেলে রানার মা সীমা বিশ্বাস বাড়িতে তালা দিয়ে গুসকরারই শান্তিপুরে নিজের বাপের বাড়িতে বেড়াতে যান।
বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোর বা চোরের দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। দু'টি ঘরের দু'টি আলমারি ভেঙে সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার-সহ নগদ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তবে এখানেই শেষ নয়—পরিবারের দাবি, শীতের সন্ধ্যায় চোরেরা ঘরের কম্বল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে! যার জন্য অসুবিধায় পড়েছেন গৃহস্থ। ফলে গোটা ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি চর্চাও শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে ভাঙা দরজা ও লণ্ডভণ্ড ঘর দেখে হতবাক হয়ে যান সীমা বিশ্বাস। তিনি জানান, এই চুরির ঘটনায় তাঁদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যারাতের মতো সময়ে এই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এর সঙ্গে কম্বল চুরি জন্ম দিয়েছে কৌতুহলের।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে একই এলাকায় একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। খবর পেয়ে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। চোরদের শনাক্ত করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, এলাকায় রাতের টহল ও নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।