• বিশ্বভারতীতে স্থগিত অধ্যাপক নিয়োগের ইন্টারভিউ
    আজকাল | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহু প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ে না ডাকার অভিযোগে উত্তাল বিশ্বভারতী। সেই অভিযোগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন কয়েকজন অধ্যাপক ও বঞ্চিত প্রার্থী।

    সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই পরীক্ষার একদিন আগে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিয়োগের ইন্টারভিউ স্থগিত করে দিল।

    উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ভূগোল, বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃত, চিনা, হিন্দি, জাপানি ভাষা-সহ একাধিক বিভাগে বেশ কয়েকটি পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল।

    সেই প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেই জানা যায়। বাংলা বিভাগে আগামী ১২ ও ১৩ জানুয়ারি ইন্টারভিউ হওয়ার কথা ছিল।

    কিন্তু অভিযোগ ওঠে, বহু যোগ্য প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়নি। স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলেই দাবি করেন তাঁরা। এই অভিযোগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষকে চিঠি পাঠানো হয়। পাশাপাশি বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    রবিবার সকালে যাঁরা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পেয়েছিলেন, তাঁদের বিশ্বভারতীর তরফে ফোন করে জানানো হয় ১২ ও ১৩ জানুয়ারির ইন্টারভিউ হচ্ছে না। পরে রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (ইউআর), সহযোগী অধ্যাপক (এসটি) ও সহকারী অধ্যাপক (ইউআর) পদের জন্য নির্বাচন কমিটির সভা স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে।

    বাংলা বিভাগে মোট তিনটি পদের বিজ্ঞপ্তি ছিল। দুটি সহযোগী অধ্যাপক ও একটি সহকারী অধ্যাপক পদ। তিনটি পদের জন্য মোট ৩৩ জনকে ডাকা হয়েছিল বলে জানা যায়। বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহু আবেদনকারীর নাম তালিকায় রাখা হয়নি।

    অন্যদিকে, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম ও ইউজিসির নির্দেশিকা মেনেই করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্বচ্ছ পদ্ধতিতেই প্রাথমিকে বাছাই হয়েছে এবং কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। অনিবার্য প্রশাসনিক কারণে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন কমিটির সভা করা সম্ভব হয়নি বলেই ইন্টারভিউ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইনসম্মত ও স্বচ্ছ এবং পরবর্তী তারিখ খুব শিগগিরই জানানো হবে।

    নোটিস জারি করে বিশ্বভারতীর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পরেই বিষয়টিকে নিজেদের নৈতিক জয় বলেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট চাকরি পদে আবেদনকারী অধ্যাপকরা।

    কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুষার পটুয়া, শ্রীরামপুর কলেজের অধ্যাপক সুমন ঘোষ এবং নারায়ণগড় সরকারি কলেজের অধ্যাপক সৌগত মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো মেইল সফল হয়েছে। ইন্টারভিউ স্থগিত শুধু নয়, কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

    তাঁদের কথায়, 'এরপর থেকে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভুল প্যানেল প্রকাশ করতে দশবার ভাবতে বাধ্য হবে। শিক্ষার জগতে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা দিনে ডাকাতি রুখে দিতে সক্ষম হলাম। আগের নিয়োগগুলিতেও ধারাবাহিক দুর্নীতি হয়েছে, কড়া তদন্ত হলে সেগুলিও বাতিল করা সম্ভব।ট

    তাঁদের দাবি, স্বচ্ছতার কাছে দুর্নীতি পরাস্ত হয়েছে। শিক্ষাজগতের কাছে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথা হেঁট হয়ে গেল, এই বার্তা স্পষ্ট।
  • Link to this news (আজকাল)