বাংলায় SIR ত্রুটিপূর্ণ? নির্বাচন কমিশনকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
আজ তক | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে এবার কড়া নজর সুপ্রিম কোর্টের। SIR এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আগামী ১৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
মামলায় অন্যতম আবেদনকারী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও' ব্রায়েন। তিনি সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আবেদন জানিয়ে দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া যেভাবে চালিত হচ্ছে, তাতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ ও ইচ্ছামতো প্রযুক্তির কারণে গোটা প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়েছে। এর জেরে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনে।
ডেরেকের আরও অভিযোগ, এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে প্রবীণ নাগরিকদের। বয়সজনিত কারণে যাঁদের পক্ষে নথি জোগাড় করা বা অনলাইনে তথ্য আপডেট করা সম্ভব নয়, তাঁদেরও সমস্যা হচ্ছে। আবেদনে বলা হয়েছে, ফিল্ড লেভেলে কাজ করা কর্মী বা বিএলওদের (BLO) মাধ্যমে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ আনঅফিসিয়াল। কোথাও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে, কোথাও আবার মৌখিক নির্দেশে কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে স্বচ্ছতা ও নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি তৃণমূল সাংসদের।
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের উচিত বিএলও-দের এই ধরনের আনঅফিসিয়াল নির্দেশ দেওয়া বন্ধ করা। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্লেইম করার শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারির পরেও বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান সময়সীমা যথেষ্ট নয় বলেই দাবি আবেদনকারীর। বিশেষত যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে বা যাঁরা সংশোধনের আবেদন করতে চাইছেন, তাঁদের জন্য এই সময়সীমা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শীর্ষ আদালত এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে লিখিত জবাব দিতে হবে। তারপর ১৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। সেখানে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। সেখানে সামান্য ভুল-ত্রুটিও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদালত শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয়, সেটাই দেখার।