শুনানি থেকে ফিরে ‘আতঙ্কিত’, স্ট্রোকে মৃত্যু বৃদ্ধার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
কিন্তু শুনানি শেষে আধিকারিকদের কাছ থেকে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় অনিতা বিশ্বাস অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। কাশীনাথের দাবি, সেই মানসিক চাপ থেকেই তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ৭ জানুয়ারি অনিতা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাঁকে বাদুড়িয়ার রুদ্রপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই রবিবার রাত ১১টা নাগাদ মৃত্যু হয় বৃদ্ধার।
পরিবার জানিয়েছে, অনিতা বিশ্বাস ও তাঁর স্বামী বিরাজ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই বাদুড়িয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কাশীনাথের অভিযোগ, ১৯৯৫ সালের ভোটার তালিকায় অনিতার নাম থাকলেও কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। যদিও পরবর্তী সময়ের ভোটার তালিকাতেও অনিতার নাম ছিল বলেই দাবি পরিবারের। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলে সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও শুধুমাত্র ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকার কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়।
মৃতার নাতনি সোমা হালদার বলেন, শুনানি থেকে ফেরার পর ঠাকুমা খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। বারবার বলছিলেন, ‘‘এই শেষ বয়সে যদি জেলে যেতে হয়, তা হলে কী হবে?’’ পরিবারের দাবি, এই ভয় ও অনিশ্চয়তাই তাঁকে ভিতর থেকে অসুস্থ করে তোলে। এলাকার তৃণমূল নেতা নমাজ সর্দার বলেন, এত কম সময়ের মধ্যে এসআইআরের মতো বৃহৎ প্রক্রিয়া শেষ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
ধীরে, সুস্থে, বুঝে এই কাজ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রশাসনিক তাড়াহুড়োর ফলেই ছোট সমস্যাগুলি বড় আকার নিচ্ছে এবং মানুষ মানসিক চাপে ভেঙে পড়ছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও হাসনাবাদে এসআইআর ‘আতঙ্কে’ এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে।