মৃত্যুঞ্জয় দাস: ফের বিবেকানন্দর সঙ্গে মোদীর তুলনা টেনে বিতর্কে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ! সেইসঙ্গে দাবি তুললেন বিষ্ণুপুরকে পৃথক জেলা করারও। তীব্র কটাক্ষ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার র্যম্প নিয়েও।
বিবেকানন্দর জন্মদিনে বিবেকানন্দর সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তুলনা টেনে ফের বিতর্কে জড়ালেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। একই সভা থেকে তিনি আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় র্যম্প নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করলেন, তেমনই বিষ্ণুপুরকে পৃথক জেলা করার দাবিতেও সরব হতে দেখা গেল সৌমিত্র খাঁকে। সৌমিত্র খাঁর মন্তব্যকে কটাক্ষ করে পাল্টা তাঁকে বিঁধেছে তৃমূল।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিবেকানন্দর সঙ্গে এক আসনে বসিয়ে আগেই বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা। এবার সেই তালিকাতে নাম লেখালেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁও। এদিন বিবেকানন্দর জন্মদিন উপলক্ষে বিষ্ণুপুরের গড় দরজায় থাকা বিবেকানন্দ মূর্তির পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা সহযোগে বিষ্ণুপুর চকবাজার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন সৌমিত্র খাঁ। পরে চকবাজারে আয়োজিত 'যুব গর্জন সভা' শীর্ষক একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিজেপি সাংসাদ সৌমিত্র খাঁ।
সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির সাংসদ বলেন, "এক নাম ছিল নরেন্দ্র যাকে আমরা স্বামীজী নামে চিনি আর একজন আছেন নরেন্দ্র যিনি স্বামীজীর ভাবনাকে সফল বাস্তবের রূপ দিয়েছেন। এক নরেন্দ্র হিন্দু ধর্মকে এক করার ডাক দিয়েছিলেন, বলেছিলেন সগর্বে বলো, আমি হিন্দু আর এক নরেন্দ্র রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দির সংস্কার করছেন। এক নরেন্দ্রর স্বপ্ন আরেক নরেন্দ্র সফল করছেন"। পরে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে সৌমিত্র খাঁ আরও বলেন, "স্বামীজী মাথার উপরে থাকেন। তাঁর শিষ্য নরেন্দ্র মোদী কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আবার তাঁর শিষ্য"।
যারপরই তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ নরেন্দ্র মোদী মানুষের আবাসের টাকা, একশো দিনের কাজের টাকা কেড়ে নিয়ে মানুষকে সর্বহারা করেছেন। তাঁর সঙ্গে স্বামীজীর তুলনা করা মূর্খতারই সামিল। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় র্যম্প বিতর্ক উসকে দিয়ে এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র কটাক্ষ করেন সৌমিত্র খাঁ। বলেন, " অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাকে র্যম্পে হাঁটতে দেখে ভালো লাগছে।"
এই বিষয়েও সৌমিত্র খাঁকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি সৌমিত্র খাঁকে রাজনৈতিক পরিচিতি দান করেছে তৃণমূল। আজ সেই তৃণমূলের সম্পর্কেই তিনি কুমন্তব্য করে নিজের সংস্কৃতির পরিচয় দিচ্ছেন। এদিনের সভা থেকে বিষ্ণুপুরকে ফের পৃথক জেলা হিসাবে ঘোষণার দাবিতেও সরব হন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, "বিষ্ণুপুরকে জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হলেও আজও তা কার্যকর হয়নি। আমি চাই এক মাসের মধ্যে বিষ্ণুপুরকে পৃথক জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হোক।"