জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: SIR শুনানিতে নথি জমা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কমিশনে মোট পাঁচটি চিঠি দিলেন তিনি।
নজরে ছাব্বিশ। বাংলায় SIR। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এখন চলছে শুনানি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কাগজ জমা দেওয়ার পর নাম কাটা যাচ্ছে অনেকের। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, শুনানিতে ভোটারদের কাছ থেকে নথি জমা নেওয়া হচ্ছে। অথচ তার কোনও রসিদ বা প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে। পরে কমিশনের তরফে বলা হচ্ছে, কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না বা রেকর্ডে নেই। এই অজুহাতে তালিকা থেকে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০০২ সালের তালিকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)-র সাহায্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। ফলে ভোটারদের নামের বানান, বয়স, পিতার নাম, সম্পর্ক, লিঙ্গপরিচয় চিহ্নিতকরণে ভুল হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা খুব ছোট, যা অফিসে বসেই ঠিক করা যায়। তার বদলে মানুষকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে সময় এবং টাকা নষ্ট করা হচ্ছে।
চিঠিতে মমতা লিখেছেন, 'এর আগে কমিশন বলেছিল, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে না-মিললে ভোটারকে নোটিস দেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সব তথ্য মিলেছে, তাঁদেরকেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে'। অযথা হয়রানি বন্ধ করতে ও ভোটারদের অধিকার রক্ষায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পদ্ধতি সংশোধনের আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে, শনিবার SIR নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একগুচ্ছ অভিযোগ ছিলই, তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভাররা সাধারণ মানুষকে রীতিমতে হয়রান করে বেড়াচ্ছেন। চিঠিতে লেখেন, গঙ্গাসাগর মেলায় ডিউটি করতে হচ্ছে রাজ্য় পুলিসকে। কীভাবে মাইক্রো অবজার্ভারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে? মমতার মতে, 'লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির ভোটারদের শুনানিতে ডাকা বিষয়টি ইল-লজিক্যাল'।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার লেখা চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। লিখেছিলেন, মানুষের জন্য উদ্বেগ ও নিজের দায়িত্ব থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখছি। এসআইআরের নামে যা হচ্ছে তা মানুষের আত্মসম্মান, জীবন ও তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপরে আঘাত। যে প্রক্রিয়াটিতে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল, সেটি এখন ভয় দেখানো এবং বাদ দেওয়ার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কোনো ধরনের সহানুভূতি বা বিচার-বুদ্ধি ছাড়াই যান্ত্রিকভাবে শুনানি চালানো হচ্ছে। এর ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ। ভয় ও আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে,অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। একটি অপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।