• ২০ টাকার জলের বোতল ৫৫ টাকা, রেস্তোরাঁকে ফাইন কনজ়িউমার কমিশনের
    এই সময় | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  • পরিবারের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন চণ্ডীগড়ের এক মহিলা। জিএসটি নিয়ে খাবারের মোট বিল হয়েছিল ১৯২২ টাকা। বিলের ব্রেক-আপ দেখে চমকে উঠেছিলেন ওই মহিলা। খাওয়ার সময়ে বোতলবন্দি পানীয় জল (প্যাকেজ়ড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার) অর্ডার করেছিলেন তিনি। বিলে লেখা ছিল ওই বোতলের দাম নেওয়া হয়েছিল ৫৫ টাকা, যদিও বোতলের গায়ে MRP লেখা ছিল ২০ টাকা। এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ওই ক্রেতা। দি ইকোনমিক টাইমসে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চণ্ডীগড়ের একটি রেস্তোরাঁয় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    ওই অভিযোগ নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট কনজ়িউমার কমিশনে যান ওই মহিলা। সেখানে তাঁর অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। তাতে দমে যাননি ওই মহিলা। স্টেট কমিশনে আবেদন করেন তিনি, সেখানেই নিজেই সওয়াল করেছিলেন তিনি।

    শুনানির সময়ে রেস্তোরাঁর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, রেস্তোরাঁয় এসি, বসার জায়গা, অ্যাম্বিয়েন্স এবং পরিষেবা মেলে। এই প্রিমিয়াম-এর জন্যই জিনিসের দাম বেশি হয় বলে রেস্তোরাঁর তরফে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু চণ্ডীগড়ের SCDRC (স্টেট কনজ়িউমার কমিশন) এই দাবি খারিজ করে দেয়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও রেস্তোরাঁ নিজেদের খাবার ও পানীয়ের দাম নিজেদের ইচ্ছেমতো ঠিক করতে পারে। কিন্তু প্রি-প্যাকেজড কোনও খাবারের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে না। প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার, যেখানে MRP লেখা রয়েছে, সেটির ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই দাম বেশি নেওয়া যাবে না।

    ২০১১ সালের লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিস)- আইন অনুযায়ী কোনও জিনিস তার MRP-এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যায় না। সেটা করলে, সেটা আইনভঙ্গের সমান। স্টেট কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রেস্তোরাঁ জলের বোতলের দাম অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের কনজ়িউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বিষয়টি বেআইনি।

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওই মামলার রায় শুনিয়েছে চণ্ডীগড় SCDRC। রেস্তোরাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত যে দাম নেওয়া হয়েছে সেটি ফেরত দিতে হবে। তার সঙ্গেই হেনস্থা করার জন্য ওই ক্রেতাকে ৩০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেস্তোরাঁকে। ৩০ দিনের মধ্যে টাকা না মেটালে সুদ কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)